পশ্চিমবঙ্গের জন্য ঐতিহাসিক ঘোষণা! মাত্র ৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি, আসছে দেশের দ্বিতীয় বুলেট ট্রেন

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার নবান্নে রাজ্য ও রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ পেতে চলেছে দেশের দ্বিতীয় বুলেট ট্রেন। এই হাই-স্পিড ট্রেনটি দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রা করবে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে।

মাত্র ৬ ঘণ্টায় ১৫০০ কিলোমিটার:
বর্তমানে রাজধানী বা দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো দ্রুতগামী ট্রেনে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা। রেলমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বুলেট ট্রেন চালু হলে ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ছুটবে এই ট্রেন। ফলে ১,৫০০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যাবে মাত্র ৬ ঘণ্টায়। এছাড়াও দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছানো যাবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়।

রুট ও স্টেশনসমূহ:
এই করিডোরটি দিল্লি-বারাণসী এবং বারাণসী-পাটনা-শিলিগুড়ি—এই দুই অংশে তৈরি হবে। দিল্লি থেকে শুরু হয়ে ট্রেনটি নয়ডার জেওয়ার বিমানবন্দর, মথুরা, আগ্রা, ইটাওয়া, লখনউ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী, গাজিপুর ও পাটনা হয়ে পৌঁছাবে নিউ জলপাইগুড়িতে (শিলিগুড়ি)। ভবিষ্যতে এই রুটটি গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও চ্যালেঞ্জ:
এই প্রকল্পের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তবে করিডোরটি নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে ‘চিকেন নেক’ করিডোর এলাকা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি দ্রুতগতির রেললাইন স্থাপন করা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জমি অধিগ্রহণ এবং বর্ষাকালে পাহাড়ের ভঙ্গুর ভূখণ্ডের মোকাবিলা করা হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। রেলমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

রেল প্রকল্পের গতি ও বরাদ্দ বৃদ্ধি:
বৈঠকে রেলমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০১৪ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গের রেল বাজেটে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৪,০০০ কোটি টাকা, যা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,২০৫ কোটিতে। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গে ১০০টিরও বেশি স্থগিত রেল প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন গতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের ৬০টি ট্রেন চালুর বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

বাণিজ্য ও পর্যটনে প্রভাব:
শিলিগুড়ি বা ‘চিকেন নেক’ করিডোর দিয়ে এই বুলেট ট্রেন চলাচল করলে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামরিক রসদ পরিবহনে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল সময় বাঁচাবে না, বরং ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।