সোমবার বাজারে বড় ধসের আশঙ্কা! সেনসেক্স-নিফটিকে চাপে রাখতে পারে কোন ৫টি ফ্যাক্টর?

গত সপ্তাহে লোকসানের মুখ দেখে শেষ হয়েছিল ভারতীয় শেয়ার বাজার। শুক্রবারের লেনদেন শেষে সেনসেক্স ১১৭ পয়েন্ট কমে ৭৪,২৪৩ এবং নিফটি ৫০ ৫০ পয়েন্ট কমে ২৩,৩৬৭-তে থমকেছে। ট্রেন্ট, টিসিএস, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংকের মতো হেভিওয়েট শেয়ারগুলোতে ১-২ শতাংশ পর্যন্ত পতন লগ্নিকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোমবার বাজার খোলার পর বেশ কিছু জটিল ফ্যাক্টরের কারণে সেনসেক্স ও নিফটি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
বাজারের গতিপথ নির্ধারণকারী ৫টি প্রধান কারণ:
১. ওয়াল স্ট্রিটের রক্তক্ষরণ: মার্কিন বাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক ধস নেমেছে। নাসডাক ৪ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এনভিডিয়া এবং ব্রডকমের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর শেয়ারের পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আশঙ্কা দানা বেঁধেছে যে, এআই খাতের চাহিদা হয়তো বাজারের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না।
২. আরবিআই-এর সতর্কবার্তা: রিজার্ভ ব্যাংকের এমপিসি রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও, মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপি নিয়ে উদ্বেগ কমেনি। আরবিআই ২০২৭ অর্থবর্ষের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করেছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬.৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আবহাওয়াগত অনিশ্চয়তা বাজারকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখতে পারে।
৩. এফআইআই-এর শেয়ার বিক্রির হিড়িক: জুনের প্রথম সপ্তাহেই বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ৩১,১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে সরে এসেছে। যদিও দেশীয় বিনিয়োগকারীরা (DII) বাজারকে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবুও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ বেশ সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে।
৪. ইরান-মার্কিন সংঘাতের আতঙ্ক: হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা বাজারকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা এবং ট্যাংকার লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর পাল্টা হামলার খবর অপরিশোধিত তেলের দামকে উর্ধ্বমুখী করতে পারে, যা ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক।
৫. বন্ড ইল্ডের বৃদ্ধি: মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড গত ১৫ মাসের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। সাধারণত বন্ডের ইল্ড বাড়লে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারের চেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ করাকে নিরাপদ মনে করেন। এই প্রবণতা ভারতীয় বাজারেও বিদেশি মূলধনের বহির্গমন ঘটাতে পারে, যা ইনডেক্সের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ:
বাজার বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ খেমকার মতে, দেশীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপে বাজার আপাতত নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। বড় ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে সতর্কভাবে বিনিয়োগ করাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের গতিবিধি এবং তেলের দামের দিকে আপাতত তীক্ষ্ণ নজর রাখা প্রয়োজন।