অন্নপূর্ণা যোজনায় বিপত্তি! মেয়ের পাওনা টাকা ঢুকছে বাবার অ্যাকাউন্টে, শোরগোল নদীয়া জুড়ে

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই প্রকল্পের শুরুতেই নদীয়া জেলায় একটি বড়সড় প্রযুক্তিগত গরমিলের খবর সামনে এসেছে।

কী ঘটেছে নদীয়ার ঘটনায়?
নদীয়ার ভীমপুর থানার চাঁদপুরের বাসিন্দা সঞ্জিত বিশ্বাস (৭৪)-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে তাঁর মেয়ে শেফালি বিশ্বাসের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। সঞ্জিতবাবুর দাবি, তিনি স্থানীয় একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে নিজের বার্ধক্য ভাতার টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন, সেখানে শেফালির পাওনা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও জমা হয়েছে।

কেন এই ভুল?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এর নেপথ্যে রয়েছে আধার কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লিঙ্কিং। আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা এনএফটি (NEFT) মোডে আসত, সেই সময় সঞ্জিতবাবু তাঁর আধার কার্ডের সঙ্গে মেয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে ডিবিটি (DBT) মোডে টাকা দেওয়ার সময় সিস্টেম সেই পুরোনো আধার লিঙ্ক করা অ্যাকাউন্টটিকেই শনাক্ত করে টাকা পাঠিয়েছে। এর ফলেই শেফালির টাকা তাঁর বাবার অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়।

বর্তমানে ভুল করে ঢোকা টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যায়, সেই মর্মে প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন সঞ্জিতবাবু।

অন্নপূর্ণা যোজনা: এক নজরে নিয়মাবলি
এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। তবে কিছু বিধিনিষেধও রয়েছে:

বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।

যোগ্যতা: যারা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মী, পেনশনভোগী, কিংবা রাজ্য অনুমোদিত শিক্ষক-অশিক্ষক ও পুর-পঞ্চায়েত কর্মী, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

অযোগ্যতা: আয়করদাতা, মৃত ব্যক্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে এমন কেউ বা সরকারি বেতনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।

প্রশাসন জানিয়েছে, ১২ পাতার ফর্ম এবং কড়া যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার পরেই এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যেসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।