অভিষেককে নেতা মানতে নারাজ বিদ্রোহীরা! লোকসভায় কি তৈরি হচ্ছে তৃণমূলের ‘নতুন ব্লক’?

বিধানসভায় তৃণমূলের বিপর্যয় এবং ৬০ বিধায়কের আলাদা ব্লক তৈরির খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ধেয়ে আসছে তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা। সূত্রের খবর, সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের আগেই জাতীয় রাজধানীতে ভিড় বাড়াচ্ছেন একাধিক ‘বেসুরো’ তৃণমূল সাংসদ। সব মিলিয়ে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি এখন চরমে।
কারা বিদ্রোহের পথে?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহের নেতৃত্বে রয়েছেন সেলিব্রিটি সাংসদদের একাংশ। সূত্রের দাবি, জুন মালিয়া, দেব (দীপক অধিকারী), ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শত্রুঘ্ন সিনহার মতো সাংসদদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এছাড়াও তালিকায় উঠে আসছে পার্থ ভৌমিক ও জগদীশ বসুনিয়ার নাম, যাঁরা দল ভাঙানোর খেলায় সক্রিয় বলে জল্পনা। বিদ্রোহীদের সাফ কথা, লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা হিসেবে তাঁরা মানতে নারাজ।
আইনি জটিলতা ও ‘নতুন ব্লক’
বিদ্রোহী সাংসদরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কায়দায় তৃণমূলের অন্দরেই একটি আলাদা ‘ব্লক’ তৈরির পরিকল্পনা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এখানে প্রধান বাধা হলো দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law)। এই আইনের আওতা থেকে বাঁচতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এদিকে, বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই মুহূর্তে তৃণমূলের কোনো সাংসদকে দলে নেবে না। ফলে, তাঁরা যদি দল ছাড়েন, তবে তা হবে একটি স্বতন্ত্র সংসদীয় ব্লক হিসেবে।
দোটানায় কারা?
তৃণমূলের এই সংকটে অনেকেই দোলাচলে রয়েছেন। সূত্রের খবর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, সাজদা আহমেদ, অরূপ চক্রবর্তী, বাপি হালদার, কালিপদ সোরেন ও খলিলুর রহমান—এই সাংসদদের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁদের নিজেদের দিকে টানতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ ব্যক্তিগত স্তরে কথা বলছেন বলে খবর।
রাজনৈতিক সমীকরণ
একদিকে ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়ের মতো নেতারা মমতা-অভিষেকের পাশে অটুট রয়েছেন। অন্যদিকে, সোমবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের আবহে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংকট কতটা প্রকট আকার ধারণ করে, তা এখন দেখার বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর কি এই ভাঙন রুখতে পারবে, নাকি লোকসভার মেঝেতে তৃণমূলের শক্তিতে বড়সড় ধাক্কা আসতে চলেছে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।