বড় বিশৃঙ্খলা! ওএমআর শিটে গরমিল, জম্মু-কাশ্মীরে বাতিল এম.এসসি নার্সিং প্রবেশিকা পরীক্ষা

রবিবার ৭ জুন আয়োজিত এম.এসসি নার্সিং প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে বড়সড় বিপত্তি ঘটল জম্মু ও কাশ্মীরে। ওএমআর উত্তরপত্রে মারাত্মক মুদ্রণ সংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়ায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হলো জম্মু ও কাশ্মীর বোর্ড অফ প্রফেশনাল এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনস (JKBOPEE)। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের ৫১৩ জন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বর্তমানে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কীভাবে ধরা পড়ল গরমিল?
নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে পর্যবেক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিল করা পরীক্ষার সামগ্রী খোলা হয়। তখনই নজরে আসে যে, উত্তরপত্রে মুদ্রিত প্রার্থীদের নাম ও রোল নম্বরের সাথে মূল নথির তথ্যের কোনো মিল নেই। জেকেবিওপিইই-এর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক মীনু মহাজন জানিয়েছেন, এই সমস্যাটি মূলত মুদ্রণ পর্যায়ে (Printing Stage) হয়েছে। প্রতিটি উত্তরপত্র যেহেতু একজন প্রার্থীর স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে, তাই নাম ও রোল নম্বরের এই গরমিল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

পরীক্ষা বাতিল কেন?
অধ্যাপিকা মীনু মহাজন আরও বলেন, “পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মেধা তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার স্বার্থে আমাদের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যেহেতু গোটা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য একটি অভিন্ন মেধা তালিকা তৈরি করা হয়, তাই নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব ছিল না। সে কারণেই পুরো অঞ্চলের পরীক্ষা একযোগে বাতিল করা হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা:
এই বাতিলের ঘটনায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শ্রীনগরের ৩৪৮ জন এবং জম্মুর ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী। বহু পরীক্ষার্থীই দূর-দূরান্তের জেলা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছিলেন, ফলে এই সিদ্ধান্তে তাঁদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

পরীক্ষা বাতিল হলেও, পুনরায় কবে পরীক্ষা নেওয়া হবে—সেই বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি জেকেবিওপিইই। দ্রুত নতুন নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অবসান ঘটানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।