ইরানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণের ছক আমেরিকার! মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও তীব্র

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। আরব বিশ্বের মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরানের লাগাতার মিসাইল হামলার জবাব দিতে এবার এক নতুন পথ বেছে নিল আমেরিকা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলায় মিত্র দেশগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, তা মেটাতে মার্কিন মাটিতে থাকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস।

আমেরিকার কড়া নির্দেশ: আমেরিকার অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ইরানের হামলায় ইজরায়েলি ও আরব মিত্র দেশগুলোর মোট ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব যেন দ্রুত তৈরি করা হয়। সেই ক্ষতিপূরণের অর্থ সংগ্রহ করতে আমেরিকায় গচ্ছিত ইরানের কোন কোন সম্পদ ব্যবহার করা সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের বিপুল সম্পদ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছে।

পাল্টা হামলার খেলা: অন্যদিকে, সংঘাতের আঁচ কমছে না হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও:

  • ড্রোন হামলা: ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পসের (IRGC) ওপর নজরদারি চালানো রাডার ধ্বংস করতে আমেরিকার ড্রোন হামলা।

  • মিসাইল আক্রমণ: পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালেস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান।

  • লেবাননে উত্তাপ: যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় তিন সেনা নিহতের খবর মিলেছে, যদিও ইজরায়েল সেই অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেনি।

কূটনৈতিক জটিলতা: একদিকে তেহরান চাইছে তাদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত পেতে এবং তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন আর্থিক পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই অস্থিরতা এবং লেবানন সীমান্তে পাল্টাপাল্টি লড়াই বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে কোনোভাবেই স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে দেবে না।

ইরানের একদিকে কট্টর সামরিক কৌশল এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপের এই লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে বড় কোনো বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের বড় মাথাব্যথা।