১১০০ বছরের পুরনো মঠে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! গভীর রাতে কোটার মহন্তকে খুন, চাঞ্চল্য এলাকায়

রাজস্থানের কোটায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল গোটা এলাকা। শুক্রবার গভীর রাতে ১১০০ বছরের পুরনো চন্দ্রশাল মঠের প্রধান পুরোহিত মহন্ত দেবানন্দ মহারাজকে নৃশংসভাবে খুন করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মহন্তের মৃত্যুতে সাধু সম্প্রদায় ও স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
শুক্রবার রাত প্রায় ১২টা নাগাদ এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। মঠের ভেতরে সেই সময় মহন্ত দেবানন্দ মহারাজ এবং নন্দনবন মহারাজ নিজ নিজ কক্ষে ছিলেন। অভিযোগ, সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা মঠের ভেতরে ঢুকে প্রথমে নন্দনবন মহারাজের ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়, যাতে তিনি বেরিয়ে মহন্তকে সাহায্য করতে না পারেন। এরপর দুষ্কৃতীরা মহন্ত দেবানন্দ মহারাজের ঘরে প্রবেশ করে তাঁর ঘাড় ও পিঠে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি, চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি তদন্ত ও চাঞ্চল্যকর মোড়:
খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান কোটার ডিসিপি রুদ্র প্রকাশ শর্মা সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ডাকা হয় ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL), এমওবি (MOB) এবং ডগ স্কোয়াডকে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তির হাত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এসেছে। মন্দির ট্রাস্টের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নন্দনবন নামে ওই সন্ন্যাসীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ট্রাস্টের দাবি, নন্দনবন নিহত মহন্তের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন, যা থেকে এই খুনের পরিকল্পনা হতে পারে।
কে ছিলেন মহন্ত দেবানন্দ?
৩৫ বছর বয়সী মহন্ত দেবানন্দ মহারাজ মূলত সাওয়াই মাধোপুর জেলার রাজওয়ানা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত চার বছর ধরে তিনি কোটার চন্দ্রসাল গ্রামের এই প্রাচীন মঠে ধর্মীয় কার্যকলাপ পরিচালনা করছিলেন। তিনি মায়াপুরি আখড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কোটা গ্রামীণ বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি মুকুট নগর এই ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক বলে অভিহিত করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।