উন্নয়নের জয়যাত্রা! ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭.৭%

চলতি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার আবহেও ভারতীয় অর্থনীতি এক অভূতপূর্ব শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাল। শুক্রবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতারই প্রমাণ দেয়।
মূল পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স:
-
বার্ষিক প্রবৃদ্ধি: পূর্ববর্তী অর্থবর্ষের (FY25) ৭.১% থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY26) ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৭%-এ।
-
চতুর্থ ত্রৈমাসিক: জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত শেষ ত্রৈমাসিকে ভারত ৭.৮% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্লুমবার্গের প্রাক্কলিত ৭.৩% পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গেছে।
প্রধান চালিকাশক্তি: ভারতের এই উন্নয়নের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পরিষেবা খাত। EY ইন্ডিয়ার মুখ্য নীতি উপদেষ্টা ডি.কে. শ্রীবাস্তবের মতে:
-
ম্যানুফ্যাকচারিং খাত: ১০.৭% প্রবৃদ্ধি।
-
বাণিজ্য, পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা: ১১% প্রবৃদ্ধি।
-
আর্থিক পরিষেবা ও রিয়েল এস্টেট: ১০.৪% প্রবৃদ্ধি। এছাড়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বিনিয়োগের জোয়ার—পারিবারিক খরচ ৭.৭% বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ৮.২% বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতির ইঞ্জিনে বাড়তি গতি এসেছে।
সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি ও নতুন ভিত্তি বছর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সাফল্যকে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও সংস্কারের প্রভাব হিসেবে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, সরকার জিডিপি গণনার জন্য নতুন ভিত্তি বছর হিসেবে ২০২২-২৩-কে বেছে নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য—করোনা পরবর্তী ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ভোগের ধরনের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক অর্থনৈতিক তথ্য তুলে ধরা।
সামনের চ্যালেঞ্জ: পরিসংখ্যান উজ্জ্বল হলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো আগামী দিনে ভারতের এই জিডিপি বৃদ্ধির গতিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের অর্থনীতির আগামী দিনের বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।