লাল ফিতের ফাঁস আলগা নবান্নের! এবার বড় প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন দিতে পারবে ৭টি দপ্তর

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে গতি দিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। সরকারি প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন ও আর্থিক মঞ্জুরির দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে বিভিন্ন দপ্তরের নিজস্ব আর্থিক ক্ষমতা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার অর্থ দপ্তরের অডিট ব্রাঞ্চের তরফে এই সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

কেন এই বিকেন্দ্রীকরণ? নবান্ন সূত্রে খবর, আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অর্থ দপ্তরে জমা পড়ার পর অনুমোদনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকত। এতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হতো। এই সমস্যার সমাধানেই এবার প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হলো। এর ফলে এখন থেকে বিভিন্ন দপ্তর নিজেদের প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

কোন দপ্তর কত টাকার ক্ষমতা পেল? নির্দেশিকায় দপ্তরগুলিকে কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে:

  • তিন কোটি টাকা পর্যন্ত: পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সাতটি দপ্তর— পূর্ত, সেচ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE), জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন—এখন থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন সরাসরি দিতে পারবে। এর ফলে গ্রামীণ রাস্তা, পানীয় জল সরবরাহ এবং হাসপাতালের মতো জরুরি কাজগুলো অনেক দ্রুত হবে।

  • এক কোটি টাকা পর্যন্ত: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন এবং সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

  • ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: তালিকাভুক্ত দপ্তরের বাইরে থাকা বাকি সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তর সর্বোচ্চ ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদন নিজেরা দিতে পারবে।

উন্নয়নের চাকা ঘোরাতেই উদ্যোগ প্রশাসনিক মহলের মতে, আগে ২০২৫ সালের জুলাই ও অক্টোবরে এই ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি গতি না আসায় এবার আর্থিক সীমার ঊর্ধ্বসীমা আরও বাড়ানো হলো। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল বা সুন্দরবন—প্রান্তিক এলাকাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, আর্থিক ক্ষমতার এই ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণ করা হলেও সরকারি কোষাগারের ওপর নজরদারি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী ও নিয়মকানুন বজায় রাখা হবে বলে নবান্ন জানিয়েছে।