ইন্টারনেটে ‘অশ্লীল’ ভিডিও দেখতে এবার লাগবে আধার! বড়সড় প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে এবার আধার কার্ড ব্যবহারের প্রস্তাব দিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কেন এই ভাবনা? বিচারপতিদের মতে, বর্তমানে মোবাইল ফোন হাতে নিলেই অনেক সময় ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কনটেন্ট সামনে চলে আসে, যা সমাজ ও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। বই বা শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে যেমন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তেমনটাই প্রয়োজন বলে মনে করছে আদালত।
আদালতের প্রস্তাবিত কাঠামো:
-
আধারভিত্তিক বয়স যাচাই: ভিডিও বা নির্দিষ্ট কনটেন্ট দেখার আগে ব্যবহারকারীকে আধারের মাধ্যমে নিজের বয়স যাচাই করতে হতে পারে।
-
সতর্কতা বার্তা: ভিডিও চালু হওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ডের একটি সতর্কতা বার্তা (Warning Message) দেখানো বাধ্যতামূলক করার ভাবনা রয়েছে।
-
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: আদালত জানিয়েছে, এটি কেবল একটি প্রাথমিক প্রস্তাব। বিশেষজ্ঞদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে এবং পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) এই ধরনের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে কিনা, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, এই প্রস্তাবটি এসেছে ‘এসএমএ কিউর ফাউন্ডেশন’ (SMA Cure Foundation)-এর দায়ের করা একটি মামলার শুনানি চলাকালীন। ওই সংস্থাটি মূলত স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি (SMA) আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। অভিযোগ ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান এবং ইনফ্লুয়েন্সাররা অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিকর কৌতুক করেছেন, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। সেই মামলার শুনানির সূত্র ধরেই অনলাইন কনটেন্টের দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের এই পদক্ষেপকে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন, তবে আধার কার্ডের মতো ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে বিতর্কও দানা বাঁধছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবে রূপায়িত করতে গেলে প্রযুক্তির পাশাপাশি কঠোর গোপনীয়তা নীতি মেনে চলাটাও চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে।