সীমান্তে এবার ‘স্মার্ট’ পাহারার যুগ! অনুপ্রবেশ রুখতে অমিত শাহের বড় ঘোষণা, শুরু পাইলট প্রজেক্ট

দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলোকে আরও সুরক্ষিত করতে ‘স্মার্ট বর্ডার’ তৈরির পরিকল্পনায় সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার ত্রিপুরার লঙ্কামুড়া বর্ডার আউটপোস্ট পরিদর্শনে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করলেন এক অভিনব ‘চতুর্মুখী নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা গ্রিড’ (quadrangular foolproof security grid)-এর কথা।
স্মার্ট বর্ডারের মূল বৈশিষ্ট্য: অমিত শাহ জানিয়েছেন, কেবল বিএসএফ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় প্রশাসন এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে একযোগে কাজে লাগানো হবে।
-
আধুনিক প্রযুক্তি: সীমান্ত রক্ষায় ড্রোন, সেন্সর এবং স্মার্ট ফেন্সিং-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।
-
পাইলট প্রজেক্ট: খুব শীঘ্রই দেশের ৭ থেকে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ খতিয়ে দেখার পরই গোটা দেশের সীমান্তে এই মডেল কার্যকর করা হবে।
-
পুরানো কাঁটাতার পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার কাঁটাতার ১৫ বছরের বেশি পুরনো হয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে ১১৯ কিলোমিটার দ্রুত পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চতুর্মুখী সুরক্ষা কৌশল কী? শাহের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা মানেই কেবল বাহিনীর হাতে বন্দুক থাকা নয়। তাঁর পরিকল্পিত নতুন মডেলে যুক্ত থাকবেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পাটোয়ারি, সরপঞ্চ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এই সমন্বিত প্রচেষ্টাই সীমান্তকে অভেদ্য করে তুলবে।
কেন এই উদ্যোগ? ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই লক্ষ্য পূরণের অন্যতম শর্ত হলো জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অমিত শাহ বলেন, “চোরাচালান, মানব পাচার এবং মাদকের নেশা থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে। ত্রিপুরার মতো তিন দিক দিয়ে সীমান্ত ঘেরা রাজ্যগুলোর জন্য এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।”
অবকাঠামো ও উন্নয়ন: সীমান্ত চৌকিগুলোতে জওয়ানদের সুবিধার্থে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার এবং নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থাও সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন ত্রিপুরা সফরের সময় তিনি লঙ্কামুড়া বিওপিতে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।