ভিসা ছাড়াই ভারতে থাকা ফতেমা বিবি মামলায় বিরাট টুইস্ট! আইবি-‘র’-এর যৌথ রিপোর্ট উধাও হতেই চক্ষু চড়কগাছ আদালতের

পহেলগাঁও ঘটনার পর ভিসা ছাড়া ভারতে থাকার অভিযোগে ফতেমা বিবি নামের এক মহিলাকে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত থাকলেও, এই মামলার তদন্তে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ খোদ আদালতের। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থাকা গোয়েন্দা সংস্থা আইবি (IB) এবং ‘র’ (RAW)-এর যৌথ তদন্ত রিপোর্টই নাকি ফাইল থেকে উধাও! আর এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
ঠিক কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট?
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন ২০০২ এবং ২০০৫ সালের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিখোঁজ থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ফাইল গায়েব হওয়ার এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে,
“পাক নাগরিক বলে জেলে ভরা হল, অথচ তাঁর দুটি ফাইলই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! ডকেট নম্বর রয়েছে ২০০২ ও ২০০৫ সালের। অন্তত খুঁজে তো দেখতে হবে। এটা অত সহজ বিষয় নয়।”
ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় প্রশ্ন আদালতের
বিচারপতি রাও আরও মন্তব্য করেন, ওই নারী যদি আদতে পাকিস্তানি নাগরিক না হয়ে ভারতীয় নাগরিক হন এবং নিজের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তবে তাঁর এই দীর্ঘ আইনি হেনস্থা ও কারাবাসের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
এবিষয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে:
-
ক্ষতিপূরণের দায় কার?: ক্ষতিগ্রস্ত ওই মহিলাকে ক্ষতিপূরণ কোন সরকার দেবে? পাকিস্তান সরকার না ভারত সরকার? এই মর্মে স্পষ্ট রিপোর্ট দিতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে।
আইনজীবী মহলের মতে, গোয়েন্দা রিপোর্ট ও ফাইল নিখোঁজ থাকার এই ঘটনা প্রশাসনের অন্দরে বড়সড় গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করছে। আগামী ১৭ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওই দিনই কেন্দ্র কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সব মহলের।