দিল্লির হোটেলে ২১ জনের মৃত্যু! শর্ট সার্কিট না কি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ? জানুন অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ!

দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হৌজ রানি এলাকার ‘ফ্লরিশ স্টে’ হোটেলে গত বুধবারের অগ্নিকাণ্ড যেন একটি জ্বলন্ত মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছিল। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এখন সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল চরম প্রশাসনিক গাফিলতি ও নিরাপত্তার অভাব।

শর্ট সার্কিট ও সিলিন্ডারের মারণ খেলা:
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বুধবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ হোটেলের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে এই সামান্য আগুন যে এত বড় রূপ ধারণ করল, তার মূল কারণ ছিল হোটেলে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার। বেসমেন্ট ও ছাদে থাকা দুটি রান্নাঘরে অন্তত ৪টিরও বেশি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার রাখা ছিল, যা আগুনের তীব্রতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

বেরোনোর পথ নেই, সিল করা জানলা:
পাঁচ তলার এই বহুতলটি স্থাপত্যের দিক থেকে ছিল সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। তদন্তে উঠে এসেছে:

সিঙ্গেল এন্ট্রি-এক্সিট: পুরো হোটেলে ঢোকা ও বেরোনোর জন্য মাত্র একটিই পথ ছিল। কোনো জরুরিকালীন ‘ফায়ার এক্সিট’ ছিল না।

সেন্সর গেট বিভ্রাট: হোটেলের মূল সদর দরজাটি ছিল সেন্সর চালিত। শর্ট সার্কিট হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই দরজাটি অকেজো হয়ে আটকে যায়, ফলে আবাসিকরা আটকা পড়েন ভেতরে।

সিল করা জানলা: হোটেলের ঘরের জানলাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা ছিল। ফলে আগুন লাগার পর বিষাক্ত ধোঁয়া বের হতে পারেনি, আবার জানলা ভেঙে প্রাণ বাঁচানোর সুযোগও পাননি ভুক্তভোগীরা।

ফায়ার এনওসি-র তোয়াক্কা করেনি কর্তৃপক্ষ:
সবচেয়ে বড় গাফিলতির বিষয়টি হলো, হোটেলটির কোনো বৈধ অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র বা ‘ফায়ার এনওসি’ (Fire NOC) ছিল না। আধুনিক অগ্নিনির্বাপক কোনো পরিকাঠামো না থাকায় আগুন লাগার পর প্রাথমিক স্তরে তা নেভানোর কোনো সুযোগই ছিল না।

তীব্র ক্ষোভ ও আইনি পদক্ষেপ:
২০২২ সালের পর থেকে রাজধানীতে এটিই সবথেকে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। মৃত ২১ জনের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিক হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্ব পেয়েছে। দিল্লি পুলিশ হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এছাড়া প্রশাসনিক কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।