দেশের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মোদী! ‘জরুরি অবস্থার মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী’, বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অদূর ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ‘জরুরি অবস্থার মতো’ কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী কি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন?
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, দেশের ব্যবস্থা এবং পরিস্থিতি এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “এক সময় যে ব্যবস্থার ওপর প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা এখন ধসতে শুরু করেছে। জনগণের ক্রমবর্ধমান চাপ এড়াতে এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী হয়তো জরুরি অবস্থার মতো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।” কংগ্রেস নেতার দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যেই বর্তমান ব্যবস্থার ওপর থেকে মোদীর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যাবে।
‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক সুনামি আসছে’
দেশের অর্থনীতি নিয়ে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, ভারত এক বিশাল ‘অর্থনৈতিক সুনামি’-র মুখোমুখি হতে চলেছে। রাহুলের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতা মোকাবিলায় ভারতের যে ‘শক অ্যাবজরবার’ বা রক্ষাকবচ ছিল, তা বিজেপি সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে দেশ এমন এক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে যা আগে কখনো দেখেনি ভারতবাসী।
প্রশাসনের অন্দরেই ‘বিদ্রোহ’?
সবথেকে চাঞ্চল্যকর দাবিটি করে রাহুল বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরেই এক প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ দানা বাঁধছে। তিনি বলেন, “আপনারা হয়তো ভাবছেন নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু নির্বাচন কমিশনারের বার্তা আমার কাছে পৌঁছাচ্ছে। এমনকি গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষকর্তারাও এখন প্রশাসনের ওপর অসন্তুষ্ট এবং তাঁদের বার্তা আমি পাচ্ছি।”
আরএসএস ও বিজেপিকে নিশানা:
আদিবাসী বিরোধী তকমা দিয়ে বিজেপি ও আরএসএস-কে একহাত নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান শাসকরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার ও অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সরকারিভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছে যে, মোদী জমানায় লিখিত ঘোষণা না থাকলেও দেশে একপ্রকার ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে। রাহুল গান্ধীর এই নতুন আশঙ্কা নতুন করে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছড়িয়েছে।