মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বুধবার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল ইরান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বড় ধরণের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ইরানের হুঁশিয়ারি ও হামলার কারণ
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কয়েক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা এবং একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনারই কঠোর প্রতিশোধ নিতে ইরান এই হামলা চালিয়েছে বলে তেহরানের দাবি। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে আগ্রাসনের জবাব কঠোর হবে, আজ রাতে আমরা আমাদের কথা রেখেছি।” উল্লেখ্য, গত ২ জুন ইরান নিয়ন্ত্রিত কেসিম দ্বীপে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে হামলা চালিয়েছিল।

কুয়েত ও বাহরাইনে আতঙ্ক
বুধবার ভোরে এই হামলার পর কুয়েতের আকাশসীমায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কুয়েত সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার খাতিরে কুয়েতের সেনাবাহিনী জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং কোনো ধ্বংসাবশেষ বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেলে তা দ্রুত ১১২ হটলাইনে জানানোর অনুরোধ করেছে।

অন্যদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও সতর্কতা সাইরেন সক্রিয় করেছে। নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম (IRIB) হামলার ফুটেজ প্রকাশ করে দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বাহরাইনের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে।

দ্বন্দ্বের অবস্থান
তবে এই বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সরাসরি তাদের ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, ইরানের দাবি অতিরঞ্জিত হতে পারে। এদিকে ইরান পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন “শত্রুতাপূর্ণ কার্যকলাপ” বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দুই শক্তিশালী দেশের এই সরাসরি সংঘাত আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও তেলের বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।