তৃণমূল ভাঙার চূড়ান্ত মুহূর্ত! মমতা-অভিষেকের পাশে মাত্র ২১ জন, ঋতব্রতর হাতে ৫৯ বিধায়কের সমর্থন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’ কারা এবং বিরোধী দলের মর্যাদা কাদের প্রাপ্য—এই প্রশ্নের উত্তরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

বিধায়কদের বিদ্রোহে ব্যাকফুটে মমতা?
সূত্র অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক এখন তাঁদের সাথেই রয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে টিকে রয়েছেন মাত্র ২১ জন বিধায়ক। আজ বুধবার বিধানসভায় বিধায়কদের সই সম্বলিত গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা পড়ার কথা রয়েছে।

সই জালিয়াতির অভিযোগ ও সিআইডি তদন্ত
ঘটনার মোড় ঘুরেছে তৃণমূলের তরফে জমা পড়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। ঋতব্রতদের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচনের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি অভিষেকের পাঠানো চিঠিতে বিধায়কদের সইও জাল করা হয়েছে বলে দাবি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে সিআইডি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন, ফরেন্সিক রিপোর্টেই সব সত্য সামনে আসবে।

কঠিন পরীক্ষার মুখে তৃণমূল
গতকালের ধর্না কর্মসূচিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্রের মতো হেভিওয়েট নেতা এবং কয়েকজন সাংসদ উপস্থিত থাকলেও, দলের অন্দরে ফাটল এখন আর গোপন নেই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক দাবি, আজ হাওড়া গ্রামীণ জেলায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে সেখানকার তৃণমূল বিধায়করা উপস্থিত থাকবেন। এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বিধানসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি শেষ পর্যন্ত দলীয় অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দেবে? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের সব সামলে নেবেন? সেই উত্তর মিলবে আজকের বিধানসভার নাটকীয় ঘটনাক্রমের মধ্যেই।