বকেয়া ভাড়ার চাপে বন্ধ তৃণমূলের জেলা কার্যালয়! মালদহে জোর শোরগোল

রাজনৈতিক দলবদল বা ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রথবাড়ি স্টেশন রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত তৃণমূলের এই জেলা কার্যালয়টি থেকে সম্প্রতি সমস্ত সাইনবোর্ড, ফ্লেক্স ও পোস্টার খুলে ফেলা হয়েছে। বাড়ির মালিকের দাবি, মাসের পর মাস ভাড়া না পাওয়ার কারণেই তিনি এই কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বাড়ির মালিকের বিস্ফোরক অভিযোগ
বাড়ির মালিক নির্মলা ঘোষের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর প্রাপ্য বকেয়া ভাড়া মেটানো হচ্ছে না। মাসে ৩৬ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে এই অফিস চললেও, বকেয়া টাকার পরিমাণ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল বাবদ আরও ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে তিনি জানান। নির্মলা দেবীর কথায়, “তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। কিন্তু আমার সংসার ওই ভাড়ার ওপরই চলে। বারবার চেয়েও টাকা না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়েই অফিস খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিই।”
কী বলছে তৃণমূল নেতৃত্ব?
গত ৪ মে-র পর থেকেই কার্যালয়টি প্রায় বন্ধ ছিল। জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুল রহিম বক্সী এ বিষয়ে সাফাই দিয়ে বলেন, “বাড়ির মালিকের সাথে আমাদের এক বছরের এগ্রিমেন্ট ছিল। আমরা সময় চেয়েছিলাম। তবে আমরা অন্য জায়গায় নতুন অফিস ঠিক করে নিয়েছি। দ্রুত সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিয়ে জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে
মালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় তৃণমূলের জেলা কার্যালয় এভাবে উঠে যাওয়ায় বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে শাসকদলকে নিশানা করার। দলের অন্দরে ভাঙন ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনার মাঝেই এই ঘটনা দলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি কেবলই একটি প্রশাসনিক ও ভাড়াসংক্রান্ত বিষয়, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।