মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন বিপ্লব! ঝুঁকি কমিয়ে ভালো রিটার্ন পেতে সেবি-র SIF-এ নজর বিনিয়োগকারীদের

শেয়ার বাজারের সাম্প্রতিক তেজিভাব কি আর থাকবে না? ২০২৪-পরবর্তী সময়ে রিটার্ন কিছুটা মাঝারি পর্যায়ে নেমে আসার আশঙ্কায় চিন্তিত বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সমাধান নিয়ে এল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)। সম্প্রতি চালু হওয়া ‘স্পেশালাইজড ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (SIF) বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি-সমন্বিত রিটার্নের এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
SIF কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল মিউচুয়াল ফান্ডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার এস. নরেনের মতে, এসআইএফ হলো মিউচুয়াল ফান্ড এবং পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসের (PMS) মধ্যবর্তী এক সেতুবন্ধন। বাজারে যখন অস্বাভাবিক উচ্চ রিটার্নের সম্ভাবনা কম থাকে, তখন প্রথাগত ইক্যুইটি ফান্ডের চেয়ে এসআইএফ অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
কারা বিনিয়োগ করবেন, কারা করবেন না?
যাদের জন্য উপযোগী: যারা অন্তত ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে সক্ষম এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারের অস্থিরতা সহ্য করার মানসিকতা রাখেন। যারা ‘কিনুন, ধরে রাখুন এবং ভুলে যান’ কৌশলে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এটি সেরা বিকল্প।
যাদের জন্য নয়: যারা বছরে ২০% বা তার বেশি দ্রুত রিটার্ন আশা করেন কিংবা যাদের মূলধন সংরক্ষণের লক্ষ্য (যেমন ফিক্সড ডিপোজিট), তাদের জন্য এই ফান্ড উপযুক্ত নয়। এটি কোনোভাবেই গ্যারান্টিযুক্ত রিটার্নের মাধ্যম নয়।
SIF-এর দুটি বিশেষ কৌশল
আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল মূলত দুটি ক্যাটাগরিতে কাজ করছে:
১. অ্যাক্টিভ অ্যাসেট অ্যালোকেটর: এটি একটি অত্যন্ত নমনীয় কৌশল। প্রথাগত মাল্টি-অ্যাসেট ফান্ডের মতো নির্দিষ্ট অ্যাসেট ক্লাসে (যেমন সোনা বা রূপা) আটকে থাকতে হয় না। এই ফান্ড ইক্যুইটি, ডেট, কমোডিটি (যেমন অপরিশোধিত তেল, তামা), রিট (REIT) এবং ক্যাশের মধ্যে বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী গতিশীলভাবে বিনিয়োগ বদল করতে পারে।
২. ইক্যুইটি লং-শর্ট স্ট্র্যাটেজি: যারা ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করতে চান কিন্তু ঝুঁকি কমাতে চান, তাদের জন্য এই বিভাগ। এতে ৮০% বিনিয়োগ বাধ্যতামূলকভাবে ইক্যুইটি বা তৎসংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর হয়, তবে হেজিং কৌশলের মাধ্যমে পোর্টফোলিওর ঝুঁকি কমিয়ে আনা হয়।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি
বড় ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে হেজিংয়ের মাধ্যমে রিটার্ন নিশ্চিত করাই এসআইএফ-এর লক্ষ্য। এস. নরেন জানিয়েছেন, নেকেড শর্ট সেলিং-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে তারা ‘কভারড কল রাইটিং’ এবং ‘ক্যাশ-ব্যাকড পুট রাইটিং’-এর মতো কৌশলে জোর দিচ্ছেন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমানে তারা রক্ষণশীল ও সতর্ক পন্থাই অবলম্বন করছেন।