দিল্লিতে সম্পত্তি কিনছেন? কম মূল্য দেখালে আর রক্ষা নেই, কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

দিল্লিতে এতদিন সম্পত্তি কেনা-বেচার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পত্তির প্রকৃত দাম লুকিয়ে সরকারি সার্কেল রেটের চেয়ে কম মূল্যে দলিল নথিভুক্ত করা হতো। এবার এই বেআইনি কারবার রুখতে দিল্লি সরকারের রাজস্ব বিভাগ জারি করল কড়া নির্দেশিকা। সরকারি সার্কেল রেটের নিচে সম্পত্তির মূল্য দেখানো হলে এবার থেকে তা সরাসরি পাঠানো হবে স্ট্যাম্প কালেক্টরের কাছে।

নতুন নিয়মে যা যা থাকছে:
দিল্লি সরকারের নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, সম্পত্তি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো কঠোরভাবে পালন করতে হবে:

সম্পূর্ণ বিবরণ বাধ্যতামূলক: দলিলের মধ্যে সম্পত্তির ‘প্লিন্থ এরিয়া’ (আচ্ছাদিত এলাকা) এবং ‘বিল্ট-আপ এরিয়া’ (নির্মিত এলাকা) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। নির্মাণ ব্যয়ও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বেসমেন্টের দিকে বিশেষ নজর: আবাসিক এলাকায় বেসমেন্ট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়লে তা আর ছাড় পাবে না। সার্কেল রেট অনুযায়ী সঠিক মূল্যায়ন না থাকলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সংশোধনের শেষ সুযোগ: যদি কোনো পক্ষ ভুলবশত কম মূল্যায়ন দেখান, তবে তাঁদের নথি সংশোধন এবং ঘাটতি স্ট্যাম্প ডিউটি মেটানোর একটি সুযোগ দেওয়া হবে।

স্ট্যাম্প কালেক্টরের হাতে ক্ষমতা
যদি কোনো পক্ষ সংশোধনে ব্যর্থ হন, তবে সাব-রেজিস্ট্রাররা সেই দলিলটির ওপর ‘ঘাটতি’র মন্তব্য লিখে সরাসরি স্ট্যাম্প কালেক্টরের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। সার্কুলার অনুযায়ী, স্ট্যাম্প কালেক্টরকে নথি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, অনিয়ম করলে জরিমানাসহ বকেয়া কর আদায়ের প্রক্রিয়া এখন অনেক দ্রুত হবে।

কেন এই উদ্যোগ?
দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক আদেশের প্রেক্ষিতে রাজস্ব বিভাগ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘দিল্লি স্ট্যাম্প (দলিলের অবমূল্যায়ন প্রতিরোধ) বিধিমালা ২০০৭’ কার্যকর করে সরকার নিশ্চিত করতে চাইছে যে, প্রকৃত বাজারের অনুপাতে স্ট্যাম্প ডিউটি আদায় হোক। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে বেআইনি সম্পত্তি লেনদেনও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আপনার যদি দিল্লিতে সম্পত্তি কেনার পরিকল্পনা থাকে, তবে এখন থেকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রকার ভুল তথ্য বা কম মূল্যে দলিল তৈরির চেষ্টা করলে সরকারি হস্তক্ষেপে দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।