AI দিয়ে সাইবার যুদ্ধ! ইরানের অপতৎপরতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, নিশানা ইসরায়েল ও আরব দেশগুলো

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এবার তার সাইবার যুদ্ধের কৌশল বদলেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান এখন ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা এআই (AI)-কে তাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

কিভাবে কাজ করছে এই চক্র?
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানি হ্যাকাররা জেমিনি (Gemini), চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-র মতো জনপ্রিয় এআই টুলগুলো ব্যবহার করে হিব্রু ও আরবি ভাষায় অত্যন্ত নিখুঁত ফিশিং মেইল ও টেক্সট মেসেজ তৈরি করছে। এর ফলে ভুক্তভোগীরা খুব সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

ভুয়া পরিচয়: এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভুয়া পরিচিতি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর বিশ্বাস অর্জন করছে ইরানি অপারেটররা।

গোয়েন্দাগিরি: অনেক ক্ষেত্রে এই মেসেজের মাধ্যমে ব্যক্তিদের ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।

বিশাল আক্রমণ: সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ওপর প্রতিদিন অন্তত ৫ লক্ষ সাইবার হামলা হচ্ছে, যার নেপথ্যে এআই-এর ভূমিকা স্পষ্ট।

প্রতিরক্ষায় গুগল ও প্রযুক্তি সংস্থা:
প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এই ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলা হ্যাকার গোষ্ঠী ‘APT42’-কে শনাক্ত করতে জেমিনি এআই মডেলের সহায়তা নিয়েছিল। এই গোষ্ঠীটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কার্যপ্রণালী নিয়ে গবেষণায় এআই ব্যবহার করছিল। গুগল ও অন্যান্য সংস্থা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শুধু সাইবার হামলা নয়, যুদ্ধক্ষেত্রেও এআই-এর দাপট:
ইরানের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্র শুধু ইন্টারনেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই:
১. ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ: ড্রোনের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পানির নিচের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআই-এর ব্যবহার করা হচ্ছে।
২. ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি: আইআরজিসি-র (IRGC) দাবি অনুযায়ী, তাদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে এআই যুক্ত করা হয়েছে, যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
৩. সামরিক গবেষণা: এআই অনুবাদ সরঞ্জাম ব্যবহার করে পশ্চিমা সামরিক গবেষণাপত্রগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করছে ইরান, যা তাদের কৌশলগত গবেষণায় বড় সুবিধা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা:
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রযুক্তির এই অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো যখন চ্যাটজিপিটি-র মতো টুলগুলোকে ম্যালওয়ার তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনী—সবাই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন কোনো বৈশ্বিক নীতিমালা তৈরি হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।