গভর্নরের কনভয়ের জন্য দীর্ঘ যানজট! গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে রাস্তায় ধর্নায় বসলেন ক্ষুব্ধ ব্যক্তি

ভিআইপি নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের নাজেহাল হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে যা ঘটল, তা যেন এক চরম পরিস্থিতির প্রতিফলন। রাজ্যপালের কনভয় যাওয়ার জন্য দীর্ঘ ৩০ মিনিট রাস্তা বন্ধ রাখায় এক গর্ভবতী নারীর স্বামীকে নিয়ে রাস্তার মাঝখানে ধর্নায় বসার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
কী ঘটেছিল ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডে?
রবিবার দুপুরের ঘটনা। ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের ইসরো জংশনের কাছে প্রতিদিনের মতো যানজট ছিলই, তার ওপর রাজ্যপালের এইচএএল (HAL) বিমানবন্দর যাওয়ার কথা থাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সাধারণ যানবাহন আটকে রাখা হয়েছিল। এই অসহ্য যানজটে আটকে পড়া এক ব্যক্তি, যিনি তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন, ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি রাস্তার জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর বসে পড়েন এবং কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।
ভাইরাল ভিডিও ও বিতর্ক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। তার দাবি, গভর্নর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর অনেক আগে থেকেই সাধারণের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ভিআইপি সুরক্ষা কি সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়েও বড়? বিশেষ করে হাসপাতালের পথে থাকা রোগীদের এভাবে আটকে রাখা কতটা মানবিক?
পুলিশের অবস্থান ও তদন্ত:
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে হোয়সালা পুলিশকে (জরুরি প্রতিক্রিয়া যান) ডেকে ওই ব্যক্তিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের দাবি, ৩০ মিনিট ধরে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবুও তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জীবন বীমা নগর ট্রাফিক পুলিশ থানার আওতাধীন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে সত্যিই আধ ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ ছিল, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিআইপি সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মধ্যে এই ভারসাম্যহীনতা নিয়ে এখন বেঙ্গালুরুজুড়ে চলছে জোর বিতর্ক। ঘটনার তদন্তের পর ঠিক কী বেরিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।