পরিবারের কারও মৃত্যুর পর এটিএম কার্ড ব্যবহার করছেন? জেনে নিন, আপনি বড় আইনি বিপদে পড়তে পারেন!

অনেকেই ভুলবশত মনে করেন, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর এটিএম কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা বা ইউপিআই (UPI) লেনদেন করা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাংকিং নিয়মে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর অ্যাকাউন্টটি আইনিভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এরপর কোনো ডিজিটাল লেনদেন করা সরাসরি প্রতারণার শামিল।
কেন এটি অপরাধ?
ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুর পর অ্যাকাউন্টের ওপর ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং বা ইউপিআই ব্যবহারের অধিকার আর কারও থাকে না—এমনকি আপনি যদি সেই অ্যাকাউন্টের নমিনিও হন। ব্যাঙ্কগুলো এই নিয়ম মেনে চলে মৃত ব্যক্তির অর্থ সুরক্ষিত রাখতে এবং সকল আইনসম্মত উত্তরাধিকারীর অধিকার নিশ্চিত করতে। কোনো একজন ব্যক্তি যদি গোপনে টাকা তুলে নেন, তবে তা অন্য উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার সমান, যা আইনত দণ্ডনীয়।
কী হতে পারে পরিণতি?
এফআইআর (FIR): পরিবারের অন্য কোনো উত্তরাধিকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক যদি এই জালিয়াতির খবর পায়, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুরির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে।
জরিমানা ও জেল: অভিযোগ প্রমাণিত হলে মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর পর কী করবেন? (সঠিক পদ্ধতি):
কোনো প্রিয়জনের মৃত্যুর পর আবেগের বশবর্তী হয়ে বা তাড়াহুড়োয় এটিএম ব্যবহার না করে এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন:
১. ব্যাঙ্কে তথ্য প্রদান: প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে লিখিতভাবে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানান।
২. নথিপত্র জমা: ব্যাঙ্ক থেকে ‘ক্লেম ফর্ম’ (Claim Form) সংগ্রহ করুন এবং মৃত ব্যক্তির মৃত্যু প্রমাণপত্র, নমিনির পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিন।
৩. যাচাইকরণ: ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারা সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবেন।
৪. টাকা হস্তান্তর: যাচাই প্রক্রিয়া সফল হলে ব্যাঙ্ক আইনসম্মতভাবে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের টাকা মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেবে।
মনে রাখবেন: মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার জন্য এটিএম কার্ডের পিন নম্বর জানা থাকলেও তা ব্যবহার করবেন না। আইনি জটিলতা এড়াতে সর্বদা ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে চলুন।