পথ বিক্রেতাদের জন্য বড় সুখবর! মোদী সরকারের ‘পিএম স্বনিধি’ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল ২০৩০ পর্যন্ত

আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে মোদী সরকার এক বড় সিদ্ধান্ত নিল। অতিমারীর সময়ে পথ বিক্রেতাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য চালু করা ‘প্রধানমন্ত্রী পথ বিক্রেতা আত্মনির্ভর নিধি’ বা ‘পিএম স্বনিধি’ (PM SVANidhi) প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের আর্থিক স্বনির্ভরতা দিতে এই প্রকল্প এখন দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভরসার কেন্দ্রবিন্দু।

প্রকল্পের মূল সাফল্য:
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি হকারদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে:

উপকৃত সংখ্যা: দেশজুড়ে ৭৫.৫ লক্ষেরও বেশি বিক্রেতা এই প্রকল্পের সুফল পেয়েছেন।

ঋণ বিতরণ: মোট ১ কোটি ১২ লক্ষেরও বেশি ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে এবং বিতরণের পরিমাণ ১৭,৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

আর্থিক উন্নতি: স্বাধীন সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় থাকা সুবিধাভোগীদের বার্ষিক আয়ে গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি ঘটেছে।

ব্যাংকিং অন্তর্ভুক্তিকরণ: প্রায় ৯৫ শতাংশ সুবিধাভোগী জীবনে প্রথমবারের মতো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছেন।

কীভাবে মিলবে জামানতহীন ঋণ?
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় দিক হলো কোনো জামানত বা গ্যারান্টি ছাড়াই ঋণ পাওয়া যায়। পর্যায়ক্রমে এই ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়:

প্রথম ধাপ: ১৫,০০০ টাকা।

দ্বিতীয় ধাপ: ২৫,০০০ টাকা।

তৃতীয় ধাপ: ৫০,০০০ টাকা।
সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করলে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক সুদ ভর্তুকিও পান বিক্রেতারা।

ডিজিটাল লেনদেনে বিশেষ উৎসাহ:
শুধুমাত্র ঋণ দেওয়াই নয়, ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার লক্ষ্যে হকারদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করছে সরকার। ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের জন্য ১,৬০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫.৫ মিলিয়নেরও বেশি বিক্রেতা ৮.৯৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ডিজিটাল লেনদেন করেছেন। এছাড়াও যোগ্য সুবিধাভোগীদের ৩০,০০০ টাকা লিমিটসহ ‘রুপে’ (RuPay) ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন:
এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশই নারী। এছাড়া প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্বল জনগোষ্ঠী থেকে এসেছেন। সরকারের ‘স্বনিধি থেকে সমৃদ্ধি’ উদ্যোগের মাধ্যমে ৫০ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে অন্যান্য কল্যাণমূলক সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্তরের এই বিক্রেতাদের আত্মনির্ভর করে তোলার এই উদ্যোগ ভারতের গ্রামীণ ও শহরতলির অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।