নবান্নে নতুন সরকার! সাত জন মহিলা মন্ত্রী নিয়ে গঠিত শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা!

সোমবার রাজভবনে রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নিলেন রাজ্যের নবগঠিত মন্ত্রিসভার ৩৫ জন সদস্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন এই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় বৈচিত্র্য ও নতুনত্বের ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ নজর কেড়েছে মন্ত্রিসভায় মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

নারীশক্তির নতুন মুখ:
পূর্ববর্তী শপথগ্রহণে অগ্নিমিত্রা পাল মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, আজ আরও ছয় জন মহিলা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রিসভায় মোট সাত জন মহিলা সদস্য থাকছেন। নতুন শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা হলেন:

মালতি রাভা রায়: তুফানগঞ্জের বিধায়ক, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও আদিবাসী সমাজের বড় মুখ।

কলিতা মাজি: আউশগ্রামের বিধায়ক। পরিচারিকার কাজ থেকে উঠে আসা কলিতার জয়গাথা আজ দেশজুড়ে মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।

মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র: বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক, পেশায় আইনজীবী। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে প্রথমবার বিধানসভায় পা রেখেই মন্ত্রী হলেন তিনি।

পূর্ণিমা চক্রবর্তী: শ্যামপুকুরের বিধায়ক। বর্ষীয়ান নেত্রীকে হারিয়ে রাজনৈতিক মহলে বড় চমক দিয়েছেন।

গার্গী দাস ঘোষ: কান্দির বিধায়ক, পেশায় ব্যবসায়ী। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

সুমনা সরকার: বলাগড়ের বিধায়ক, পেশায় গৃহশিক্ষিকা। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছেন তিনি।

মন্ত্রিসভার গঠন ও লক্ষ্য:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্ত্রিসভায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। একদিকে যেমন আইনজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে তৃণমূল স্তরের কর্মী এবং সাধারণ ঘরের মানুষও স্থান পেয়েছেন। ৩৫ জন মন্ত্রীর শপথগ্রহণের পরই আজ দপ্তরের বন্টন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা:
নতুন মন্ত্রিসভায় মহিলা সদস্যদের এই বিশাল অংশগ্রহণ রাজ্যের নারী ক্ষমতায়নের বার্তাকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষ থেকে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে নতুন এই মন্ত্রিসভা রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকে কতটা গতিশীল করতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বাংলার মানুষ।