“২৪ ঘণ্টা ‘লাইভ মনিটরিং”-এর আওতায় রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল, কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

রাজ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, দালালচক্র উচ্ছেদ এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ‘২৪ ঘণ্টা লাইভ মনিটরিং’ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।
কী এই ‘লাইভ মনিটরিং’ ব্যবস্থা? রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা: ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যভবনে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হচ্ছে। এখান থেকেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, টয়লেটের অবস্থা, স্ট্রেচারে রোগীদের অপেক্ষা এবং অবৈধ গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হবে। কোনো অনিয়ম নজরে এলেই নেওয়া হবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।
দালালচক্র ও রেফার রোগের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা: দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রেফার রোগী পাঠানো এবং দালালদের দাপট নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। ডা: ইন্দ্রনীল খাঁ-র অভিযোগ, “গত ১০-১৫ বছর ধরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য চলেছে, তা আর চলতে দেওয়া হবে না। হাসপাতালে দালালদের উপস্থিতি বা অবৈধ ঠেক বরদাস্ত করবে না সরকার।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পেশাদার কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা: আরজি করসহ বিভিন্ন হাসপাতালের বিকল সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছেন অবিলম্বে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করতে এবং ব্লাইন্ড স্পটগুলো চিহ্নিত করে নতুন ক্যামেরা বসাতে। এর মাধ্যমে চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে।
হাসপাতাল হবে ‘আরোগ্য মন্দির’: প্রতিমন্ত্রী ডা: ইন্দ্রনীল খাঁ-র কথায়, “সরকারি হাসপাতালের আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পরিষেবা দেওয়া। স্বাস্থ্যকর্মীদের সময়মতো রিপোর্ট করা এবং রোগীদের সঠিক চিকিৎসা প্রদান এখন বাধ্যতামূলক। হাসপাতাল হবে এমন এক ‘আরোগ্য মন্দির’, যেখানে মানুষ এসে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে।”
গত ১৫ বছরের পরিকাঠামোগত গাফিলতি কাটিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। প্রশাসনিক এই কড়াকড়ির ফলে হাসপাতালের পরিষেবার মান কতটা দ্রুত পরিবর্তিত হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ।