ভোট-পরবর্তী উত্তাপ চরমে! সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান, প্রাণনাশের আশঙ্কার বিস্ফোরক দাবি

ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির উত্তাপ যে কতটা চরমে পৌঁছাতে পারে, তার নজিরবিহীন সাক্ষী থাকল সোনারপুর। শনিবার আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি পড়লেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের প্রবল জনরোষের মুখে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, ইট ও জুতো ছোড়া হয় এবং রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
কী ঘটেছিল ঠিক কী? জানা গিয়েছে, শনিবার সোনারপুরে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় অভিষেক গাড়ি ছেড়ে বাইকে করে এগোতে থাকেন। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। শুরু হয় ‘চোর চোর’ স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মহিলারাও ছিলেন। তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। উত্তাল পরিস্থিতিতে অভিষেক নিজের সুরক্ষার জন্য ক্রিকেটের হেলমেট ব্যবহার করেন এবং হেঁটে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই বিক্ষোভকারীরা সরাসরি তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় এবং তাঁর পরনের জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে খবর।
অভিষেকের বিস্ফোরক মন্তব্য: এই ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। কার্যত প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “এরা আমাদের প্রাণে মারতে চায়। আমার মৃতদেহ যেন এখান থেকে উদ্ধার হয়। আমি এই জায়গা ছেড়ে যাব না।” তিনি আরও বলেন, “আমি হাইকোর্ট ও রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। গণতান্ত্রিক সরকার হলে এত ভয় কিসের? আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।” অভিষেক অভিযোগ করেন, তাঁকে ঘিরে ফেলা হলেও পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষা ছিল না।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: অভিষেকের এই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একদিকে যখন তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয়দের ক্ষোভের তীব্রতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনার তীব্রতায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের তৎপরতা শুরু হয়েছে।