ভাতা পাচ্ছেন, অথচ ‘বেপাত্তা’ ৪০০-র বেশি মানুষ! শিলিগুড়িতে বড়সড় গরমিল ফাঁস হতেই তোলপাড়

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, অথচ তাঁদের কোনো অস্তিত্বই নেই! শিলিগুড়িতে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ভাতার টাকা নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চার মাস ধরে হন্যে হয়ে খুঁজেও ৪৯৬ জন উপভোক্তার কোনো হদিশ মেলাতে পারল না শিলিগুড়ি পুরনিগম। আর এই সময়ের মধ্যে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে গিয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।

কী এই ‘ভুতুড়ে’ কাণ্ড? সূত্রের খবর, জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা যোজনার অধীনে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী—এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাতা দেওয়া হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরেও শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৪৯৬ জন উপভোক্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে পাঠানো হচ্ছিল। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই চার মাসে মোট ১৯ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

পুরনিগমের কড়া পদক্ষেপ: এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ উদ্ধারে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে পুরনিগম কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানান, “দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরেও ওই উপভোক্তাদের সন্ধান মেলেনি। তাই বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।” তবে মেয়র আশ্বস্ত করেছেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রকৃত উপভোক্তা যদি সঠিক নথি নিয়ে যোগাযোগ করেন, তবে তাঁদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করা হবে।

কীভাবে উদ্ধার হবে টাকা? পুরনিগমের দারিদ্র দূরীকরণ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার জানান, “ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং, বাড়ি বাড়ি অনুসন্ধান এবং বিশেষ ক্যাম্প করার পরেও এই ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এদের মধ্যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে, কেউবা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন।”

পুরনিগম সূত্রে খবর:

  • তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪৯৬ জনের তথ্য দ্রুত ব্যাংকে পাঠানো হচ্ছে।

  • তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ‘ফ্রিজ’ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

  • শহরের ২৫টি ওয়ার্ডে এই ‘বেপাত্তা’ উপভোক্তাদের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে, যেখানে ১৫৬ জন উপভোক্তার কোনো খোঁজ নেই। এছাড়া ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৯ জন এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৪২ জন উপভোক্তার হদিশ পাওয়া যায়নি। সরকারি অর্থ লোপাটের এই ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।