এশিয়ায় বেজে উঠল বিপদের ঘণ্টা! চীনের পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব

তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে যখন এশিয়ায় টানটান উত্তেজনা, ঠিক সেই সময়েই চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার বৃহত্তম নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা সংলাপে’ তিনি স্পষ্ট জানালেন, চীনের সামরিক এই আগ্রাসন সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
কী উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে? সাম্প্রতিক এক স্যাটেলাইট রিপোর্টে চীনের সামরিক প্রস্তুতির এক ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর আশেপাশে ৮০টিরও বেশি নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, বাঙ্কার এবং যোগাযোগ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং চীন তাদের ‘প্রতিশোধমূলক পারমাণবিক হামলার’ (Second-strike capability) সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে নেওয়ার কাজ করছে। অর্থাৎ, কোনো দেশ আগে আক্রমণ করলেও চীন তার সমুচিত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে।
মার্কিন হুঁশিয়ারি ও অবস্থান: শাংরি-লা সংলাপে পিট হেগসেথ বলেন, “আমরা এশিয়ায় কোনো সংঘাত চাই না, কিন্তু আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশ যদি পুরো অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তবে তা বাকি দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। হেগসেথের মতে, এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হওয়া স্বাভাবিক।
কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
-
গোপনীয়তা: পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, চীন তার সামরিক আধুনিকীকরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচির প্রকৃত তথ্য গোপন রাখছে।
-
তাইওয়ান উত্তেজনা: তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের তৎপরতা ও সামরিক মহড়া দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে চরম তিক্ততার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
-
অস্ত্রের ভাণ্ডার: ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং উন্নত স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে চীন যেভাবে নিজেদের সামরিক সাজসজ্জা বাড়াচ্ছে, তা বিশ্বজুড়ে সমরবিদদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
পরিশেষে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের এই বিবৃতি স্পষ্ট করে দেয় যে, এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এখন চীন এই অভিযোগের বিপরীতে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই নজর রয়েছে পুরো বিশ্বের।