ইচ্ছাশক্তিই কি যথেষ্ট? ধূমপান ছাড়ার সঠিক বৈজ্ঞানিক উপায় জানালেন বিশেষজ্ঞরা

প্রতি বছর ৩১ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস’। উদ্দেশ্য একটাই—তামাকের মারণফাঁদ থেকে মানুষকে মুক্ত করা। তবে বাস্তবের ছবিটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯৫ জনই ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করেও পুনরায় সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়েন। কেন বারবার ব্যর্থ হন মানুষ? বিজ্ঞান কী বলছে?
ভুল ধারণা বনাম বাস্তব:
বিশ্বখ্যাত সুইডিশ অধ্যাপক ডঃ কার্ল ফেগারস্ট্রমের গবেষণা অনুযায়ী, তামাক সেবনের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভুল ধারণা বিদ্যমান। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন নিকোটিনই সব রোগের মূল কারণ। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে যে, তামাক পোড়ার ফলে তৈরি হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিকগুলোই শরীরের প্রধান ক্ষতি করে। নিকোটিন মূলত মস্তিষ্কে আসক্তি তৈরি করে, কিন্তু ফুসফুস ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ধ্বংসের আসল কারণ হলো সেই বিষাক্ত ধোঁয়া।
কেন ছাড়তে গিয়েও ব্যর্থ হয় মানুষ?
ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করলে শরীরে কিছু প্রতিকূল লক্ষণ (Withdrawal Symptoms) দেখা দেয়। যেমন—
তীব্র মাথাব্যথা ও অস্থিরতা।
মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া।
কাজে মনোযোগের অভাব ও অনিদ্রা।
বারবার সিগারেট খাওয়ার প্রবল মানসিক আকাঙ্ক্ষা।
অধিকাংশ মানুষ শুধুমাত্র নিজের ‘ইচ্ছাশক্তি’র ওপর ভরসা করে এই শারীরিক ও মানসিক লড়াই জেতার চেষ্টা করেন, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
সফল হওয়ার কার্যকরী পথ: ‘এনআরটি’ (NRT)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ধূমপান ছাড়ার জন্য শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তি যথেষ্ট নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে ‘নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ (Nicotine Replacement Therapy বা NRT) বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত।
পদ্ধতি: এনআরটি-র মাধ্যমে নিকোটিন গাম বা লোজেনস ব্যবহার করা হয়, যা ধূমপানের প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
সাফল্যের হার: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, কোনো সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে ধূমপান ছাড়ার চেষ্টার তুলনায়, এনআরটি (NRT) ব্যবহার করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
ধূমপান কেবল একটি বদভ্যাস নয়, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আসক্তি। তাই শরীর ও মনকে এই অভ্যাসের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং সঠিক থেরাপি বেছে নেওয়া জরুরি। এই বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসে তামাকের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে নিজেকে ও পরিবারকে দূরে সরিয়ে সুস্থ জীবনের পথে পা বাড়ানোই হোক আমাদের অঙ্গীকার।