‘আইনি পদক্ষেপ নেব’- সিআইডি-র নোটিস গ্রহণের পর মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভায় সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস দিল সিআইডি (CID)। শনিবার দুপুরের দিকে কয়েক ঘণ্টার নাটকীয় পরিস্থিতির পর শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনে গিয়েই তদন্তকারীরা তাঁর হাতে নোটিসটি তুলে দেন।
ঠিকানা বিভ্রাট ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা:
তদন্তের প্রয়োজনে এদিন সিআইডি ও হেয়ার স্ট্রিট থানার একটি যৌথ দল প্রথমে ১৮৮ এ, হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ পৌঁছায়। কিন্তু সেখানে অভিষেককে না পাওয়ায় তদন্তকারীরা বিপাকে পড়েন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাট রোডের নিজের বর্তমান বাসভবন থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, তিনি গত সাত বছর ধরে শান্তিনিকেতনে থাকেন না। তদন্তকারীদের কাছে ভুল তথ্য ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাতে নোটিস প্রদান:
অভিষেকের এই বক্তব্যের পরই সিআইডি আধিকারিকরা দেরি না করে শান্তিনিকেতন থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাট রোডের বাড়িতে পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত অভিষেক নিজে নিচে নেমে এলে তাঁর হাতে আইনি নোটিসটি তুলে দেন সিআইডি কর্তারা।
অভিষেকের প্রতিক্রিয়া:
নোটিস গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “তদন্তকারীরা হয়তো জানতেন না আমি ওই বাড়িতে থাকি না। তবে আমি বুঝি ওনাদেরও চাকরি করতে হয়।” মামলার পরবর্তী ধাপ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি এখনও নোটিসটি পড়িনি। আমার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনার পর যদি দেখি হাজিরা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তবে আমি নিশ্চয়ই হাজিরা দেব। একইসঙ্গে আমার যা আইনি অধিকার রয়েছে, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেব।”
তদন্তের গুরুত্ব:
বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নথি জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে রাজ্য পুলিশের এই তদন্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সিআইডি-র এই নোটিস প্রদানের ফলে এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কীভাবে সাড়া দেন।