১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান! অবশেষে গতি পাচ্ছে বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো, বড় আপডেট

দীর্ঘ ১৬ বছরের টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প। পিঙ্ক লাইন হিসেবে পরিচিত এই ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটের কাজে গতি আনতে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চলেছে রেল বিকাশ নিগম (RVNL)।

কেন আটকে ছিল প্রকল্প?
২০১০ সালে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা হলেও মূলত বিটি রোডের নিচে থাকা টালা-পলতার দুটি শতাব্দী প্রাচীন জলের পাইপলাইন স্থানান্তরের জটিলতায় কাজ থমকে ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেট্রোর পিলার বসানো ছিল প্রকৌশলীদের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ কার্যত ফাইলবন্দি হয়ে পড়েছিল।

নতুন প্রযুক্তিতে সমাধান
রেল সূত্রে খবর, এবার আর পুরনো পাইপ সরানোর অপেক্ষায় বসে না থেকে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভূগর্ভস্থ জলের পাইপ ও সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখেই মেট্রোর পিলার বসানো সম্ভব হবে। রেল বিকাশ নিগম এবং কলকাতা পুরসভার যৌথ উদ্যোগে এই জটিল সমস্যার সমাধানের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।

দুই ধাপে হবে কাজ
পুরো ১৩ কিলোমিটার রুট একবারে না করে, কাজটিকে দুটি ধাপে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বরানগর থেকে সোদপুর পর্যন্ত অংশটির কাজ শুরু হবে। এরপর পরবর্তী পর্যায়ে সোদপুর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত বাকি অংশের নির্মাণ কাজ হবে। এতে প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ অনেক বেশি গতিশীল হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

১০টি স্টেশনের স্বপ্ন
এই রুটে মোট ১০টি স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে কামারহাটি, সোদপুর, খড়দহ এবং টিটাগড় অন্যতম। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর শহরতলির লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের ছবিটাই বদলে যাবে। বিশেষ করে বিটি রোডের যানজট থেকে মুক্তি পাবেন নিত্যযাত্রীরা।

কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC)-এর কাছে ইতিমধ্যেই এই নতুন পরিকল্পনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তৎপরতা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তে এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশা দেখছে সাধারণ মানুষ।