থ্রেট কালচারের ‘কিংপিন’ বিরূপাক্ষকে বরখাস্ত! দিতে হবে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা

পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে ‘থ্রেট কালচার’ তৈরির প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে, চুক্তিভঙ্গের দায়ে তাঁকে গুনতে হবে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর থেকেই উত্তাল রাজ্য। সেই সময় সামনে আসে ‘থ্রেট কালচার’ ও ‘নর্থবেঙ্গল লবি’র ভয়াবহ চিত্র। এই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা বিরূপাক্ষ বিশ্বাস, অভীক দে এবং তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষদের নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন বিরূপাক্ষ। গত ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাসপেন্ড করা হলেও, নতুন সরকারের জমানায় এবার তাঁকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হলো। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গঠিত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে? নিয়ম অনুযায়ী, সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি থাকে। বিরূপাক্ষ সেই চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই বরখাস্ত হয়েছেন। নিয়মভঙ্গ এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করায় তাঁকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী বলছে চিকিৎসক মহল? বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বরখাস্ত হওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে চিকিৎসক সমাজ। এনএমও (NMO)-এর দক্ষিণবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক অর্ণপ কুমার পাল বলেন, “সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এখানেই শেষ নয়, প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে ছড়িয়ে থাকা থ্রেট কালচারের মদতদাতাদের চিহ্নিত করে কমিশন গঠন করতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”