৩ হাজার টাকা পাওয়ার আগে যাচাইয়ের কড়াকড়ি! দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তালিকা থেকে বাদ ২ লক্ষ নাম

আগামী মাস থেকেই রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। তবে এই প্রকল্প শুরুর আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় শুরু হয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ের তথ্য যাচাই। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে জেলার প্রায় ২ লক্ষ নাম প্রাথমিকভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কেন এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এতদিন জেলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তার সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লক্ষ। কিন্তু নতুন তালিকার জন্য সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গিয়েছে, তালিকায় থাকা বহু মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, কেউ কেউ মারা গিয়েছেন, আবার অনেকেই বর্তমানে ওই এলাকায় বাস করেন না। এই ‘ভুয়ো’ বা ‘অযোগ্য’ নামগুলো বাদ দিয়েই নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

যাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়?
তবে প্রশাসন জানিয়েছে, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলেও বিষয়টি বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদনপত্র প্রক্রিয়াধীন, তাদের নাম এখনই বাতিল করা হচ্ছে না। আপাতত তাদের ‘বিবেচনাধীন’ (Under Consideration) তালিকায় রাখা হয়েছে, যাতে কোনও যোগ্য ব্যক্তি বঞ্চিত না হন।

চলছে নথি যাচাইয়ের ক্যাম্প
রাজপুর-সোনারপুরসহ জেলার বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় উপভোক্তাদের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। নির্দিষ্ট অফিসে নথি মিলিয়ে দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ছে মহিলাদের। এই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের পাশাপাশি সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে বিধায়কদেরও। যেমন, সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধরের উদ্যোগে বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প করে নথি যাচাইয়ের কাজে সহযোগিতা করছেন।

কেন এই কড়াকড়ি?
প্রশাসনের লক্ষ্য—ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারি প্রকল্পের জন্য একটি নির্ভুল ও ‘আপ-টু-ডেট’ ডেটাবেস তৈরি করা। অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা যাতে সরাসরি প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া।

নতুন যোজনা চালুর আগে এই ব্যাপক শংসাপত্র ও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া কি প্রকৃত উপভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়াবে, নাকি দুর্নীতি রোধে বড় ভূমিকা নেবে? তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।