“লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে”! কড়া হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে অতীতে যারা অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। খড়্গপুরের এক জনসভা থেকে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাফ জানিয়ে দিলেন, অযোগ্য এবং অসৎ উপায়ে যারা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সুদ সমেত সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
‘বিউটি পার্লার বা পানের খরচ নয়!’
দিলীপ ঘোষ এদিন তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন প্রাক্তন সরকারের প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের একাংশকে। তিনি বলেন, “ডাক্তারের স্ত্রী বা মাস্টারের স্ত্রী কেন সরকারি ভাতার টাকা পাবেন? এই টাকা বিউটি পার্লারে যাওয়ার বা ফুর্তি করার জন্য নয়। যার প্রকৃত প্রয়োজন, তাকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা হবে।”
নতুন প্রকল্পের ১৩ পাতার ফর্ম প্রসঙ্গে মন্ত্রীর যুক্তি, এটি কোনো জটিল বিষয় নয়। উপভোক্তার আয়, সম্পত্তি এবং পারিবারিক আর্থিক অবস্থা যাচাই করতেই এই বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন। যাতে জনগণের ট্যাক্সের টাকা সঠিক মানুষের হাতেই পৌঁছায়। মন্ত্রী আরও বলেন, যারা পুরুষ হয়েও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়েছিলেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোমরে দড়ি পরিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে।
বিভ্রান্তি দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সক্রিয় হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেছেন, যারা ফর্ম পূরণে সমস্যায় পড়ছেন, তাদের সাহায্য করতে এবার সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকরাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পান। এতদিন দলের সরকার চলত, এখন থেকে এটি জনগণের সরকার।” তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী বুধবার থেকেই প্রথম পর্যায়ে ৩ হাজার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া শুরু হবে।
পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতা
প্রশাসনের লক্ষ্য স্পষ্ট—পুরানো তালিকা থেকে ‘ভুয়ো’ নাম ছেঁটে ফেলে অন্নপূর্ণা যোজনায় একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ডেটাবেস তৈরি করা। যারা যোগ্য, তাদের ভয়ের কিছু নেই। তবে যারা অনৈতিকভাবে সুবিধা নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ যে অব্যাহত থাকবে, তা মন্ত্রীর বক্তব্যেই পরিষ্কার।
নতুন এই সরকারি উদ্যোগ এবং দিলীপ ঘোষের কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে এই বিপুল অংকের অর্থবন্টন কতখানি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।