মাদক খাইয়ে ধর্ষণ ও তথ্যপ্রমাণ লোপাট! ‘ধুরন্ধর’-এর প্রোডাকশন ডিজাইনারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ বলিপাড়ার

আদিত্য ধর ও লোকেশ ধরের প্রযোজনা সংস্থা ‘বি৬২ স্টুডিওস’-এর বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল বিনোদন জগৎ। চণ্ডীগড় পুলিশের এফআইআর এবং গ্রেপ্তারের পর, এবার ওই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল প্রযোজনা সংস্থা ও চলচ্চিত্র মহল।

অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী সাব্যস্ত প্রযোজনা সংস্থার অভ্যন্তরীণ যৌন হেনস্থা প্রতিরোধ কমিটি (POSH Committee) দীর্ঘ ছয় মাস তদন্ত চালিয়ে সাইনি জোহরেকে দুটি গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে— প্রথমত, যৌন হেনস্থা এবং দ্বিতীয়ত, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার প্রচেষ্টা। সংস্থার ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে তাঁকে কর্মস্থল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের ভয়াবহতা ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে। চণ্ডীগড়ের এক অভিজাত হোটেলে ডেকে নিয়ে ওই তরুণীর পানীয়তে মাদক মিশিয়ে তাঁকে লাগাতার শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। চণ্ডীগড় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পরবর্তীকালে তিনি জামিন পেয়েছেন, তবে এই ঘটনা বিনোদন মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।

বলিউডে বয়কটের ঢেউ এই ঘটনার জেরে সাইনি জোহরের পেশাগত জীবনে বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে:

  • ‘ধুরন্ধর’ থেকে নাম বাদ: ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’-এর ‘র অ্যান্ড আনদেখা’ ভার্সন থেকে জোহরের নাম পাকাপাকিভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

  • আগামী প্রজেক্টে ধাক্কা: যশ রাজ ফিল্মস তাদের মেগা ওয়েব সিরিজ ‘আক্কা’ (Akka)-এর ক্রেডিট লিস্ট থেকেও তাঁর নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বলিউডের এই কড়া পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনোপ্রকার আপস করতে নারাজ প্রযোজনা সংস্থাগুলো। ঘটনার নেপথ্যে থাকা অমানবিক এই অপরাধের জেরে সাইনি জোহরের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত অনিশ্চিত।