‘মমতার কোম্পানি বন্ধ হচ্ছে, তাই দল ছাড়ার লাইন!’ তৃণমূল নেতাদের নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

ভোটের ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন চরম ভাঙন। এক সময়ের দাপুটে নেতাদের অনেকেই এখন দল ছাড়ার পথে। এই পরিস্থিতিতে শাসকদলকে বিঁধতে কোনো কসুর করলেন না প্রদেশ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ‘মমতার কোম্পানি’ বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দাবি করলেন, যারা এতদিন লুটপাট করে কোটিপতি হয়েছে, তারাই এখন নিজেদের আখের গোছাতে দল ছাড়ার জন্য লাইন দিয়েছেন।

‘মমতার কোম্পানি বন্ধ হচ্ছে’ তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা নিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নিশানায় ছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অধীরের কথায়, “তৃণমূল দলটা এখন একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ভোটে ধরাশায়ী হওয়ার পর সেই কোম্পানির ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই যেসব নেতারা মমতার ছত্রছায়ায় থেকে এতদিন চুরি করে কোটিপতি হয়েছেন, আজ তারা নিজেদের আর্থিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে অন্য দলের দিকে পা বাড়াচ্ছেন।”

নেতাদের সুবিধাবাদী মানসিকতা অধীর চৌধুরীর দাবি, তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যর্থতাও সমানভাবে দায়ী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যারা দলের এই দুর্দিনে পদত্যাগের হিড়িক তুলছেন, তারা আসলে আদর্শগত কারণে দল ছাড়ছেন না। তারা দেখছেন যে মমতার কোম্পানি আর লাভজনক নয়, তাই এখন অন্য কোথাও আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।”

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যেভাবে প্রকাশ্যে আসছে, তাতে অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। দলবদলের এই হাওয়াকে পুঁজি করে কংগ্রেস যে শাসকদলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, অধীরের এই কড়া আক্রমণ তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। আগামী দিনে আরও কত নেতা এই ‘লাইন’ থেকে দল পরিবর্তন করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।