শেয়ার বাজারে ধস, উল্টো পথে সোনা-রুপা! এক লাফে দাম বাড়ল কত?

একদিকে শেয়ার বাজারে যখন রক্তক্ষয়ী সূচক পতন চলছে, ঠিক তখনই বিপরীতমুখী চিত্র সোনা ও রুপার বাজারে। শুক্রবার দিল্লির বুলিয়ন মার্কেটে মূল্যবান ধাতুর দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিয়ের মরসুমের চাহিদার কারণে সোনা ও রুপার দামে বড়সড় উল্লম্ফন দেখা গেল।
সোনার দামে বড়সড় লাফ শুক্রবার দিল্লির বাজারে ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬০০ টাকা বেড়ে ১,৬২,৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। ঈদুল আজহার ছুটির পর বাজার খুলতেই এই তেজিভাব দেখা যায়। গত বুধবার যেখানে ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১,৬১,৩০০ টাকা, সেখানে মাত্র দুদিনের ব্যবধানে এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধি গহনা ব্যবসায়ী থেকে গ্রাহক—সকলেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
রুপার আকাশছোঁয়া দাম সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও জোরালো রেকর্ড লক্ষ্য করা গেছে। গতবারের লেনদেনের তুলনায় প্রতি কিলোগ্রাম রুপার দাম ৫,০০০ টাকা বেড়ে ২,৭৪,৭০০ টাকায় ঠেকেছে। শিল্পক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রুপার প্রতি মানুষের আস্থা এই দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
কেন বাড়ছে দাম? বিশেষজ্ঞের বয়ান বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম বৃদ্ধির পিছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
-
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি ও যুদ্ধবিরতির জল্পনা বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সোনা ও রুপার দামে।
-
বিয়ের মরসুম: দেশীয় বাজারে বিয়ের মরসুম চলায় সোনা ও রুপার গহনার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
-
বৈশ্বিক সংকেত: আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সোনার দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বুলিয়ন মার্কেটেও।
জিওজিত ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ হরিশ ভি জানান, অদূর ভবিষ্যতে সোনা ও রুপার বড় ধরনের দরপতনের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে মূল্যবান ধাতুর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রয়েছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির তথ্যও আপাতত সোনার দামকে সমর্থন করছে।
সব মিলিয়ে, বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখন অনেকটা নিশ্চিত আশ্রয় হলেও, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিয়ের মরসুমে গহনা কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।