জমির সালিশি সভায় রক্তগঙ্গা! কর্ণাটকে একই পরিবারের ৫ সদস্য-সহ ৬ জনকে গুলি করে খুন

সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের চরম পরিণতি হলো কর্ণাটকের ভীমাথিরায় চাদচানা তালুকের গোবিন্দপুরা গ্রামে। শুক্রবার গ্রামের সালিশি সভার মাঝেই দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ধারালো অস্ত্র ও বন্দুকের হামলায় প্রাণ হারালেন ৬ জন। মৃতদের মধ্যে ৫ জন একই পরিবারের সদস্য বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই নৃশংস ঘটনা? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, নিরালে এবং গোলাগি নামে দুটি পরিবারের মধ্যে প্রায় ১০ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রবীণ গ্রামবাসীদের মধ্যস্থতায় কয়েকদিন আগেও একটি সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। শুক্রবার ফের নতুন করে এই বিরোধ মেটাতে বৈঠক বসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আলোচনার মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হঠাৎ করেই একটি পক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে অপর পরিবারের সদস্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরপর এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই ৬ জন লুটিয়ে পড়েন।
তদন্তে পুলিশ গুলির আওয়াজে পুরো গোবিন্দপুরা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই চাদচানা থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শীর্ষ আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পূর্ব-পরিকল্পিত খুন।
মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ যে কতদূর পর্যন্ত গড়াতে পারে, এই ঘটনা তারই এক চরম ও মর্মান্তিক উদাহরণ।