তিলোত্তমায় প্রাকৃতিক তাণ্ডব: স্তব্ধ ট্রেন, বিমানবন্দর জলমগ্ন, ঝড়ের দাপটে লণ্ডভণ্ড কলকাতা

শুক্রবার দুপুরের কালবৈশাখীর দাপটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল মহানগরী। ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যাওয়ার পর শুরু হওয়া তীব্র ঝড় ও বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।
পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত:
-
রেল পরিষেবা: শিয়ালদহ-বারাসত এবং শিয়ালদহ-ক্যানিং শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যমগ্রাম স্টেশনে ওভারহেড তারের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিষেবা পুরোপুরি থমকে গেছে।
-
মেট্রো বিভ্রাট: ঝড়ের দাপটে শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের শেডের একাংশ উড়ে গেছে। এছাড়া কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের ট্র্যাকে গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় মেট্রো চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
-
বিমান পরিষেবা: রানওয়েতে জল জমে যাওয়ায় কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামা প্রায় ১ ঘণ্টা ব্যাহত ছিল।
শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: সাউথ সিটি মলের জানালার কাচ ঝড়ের ঝাপটায় ভেঙে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ঠনঠনিয়া, সিআর অ্যাভিনিউসহ বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটুসমান জলের নিচে। পথচারীরা নোংরা জল ভেঙে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঠে নেমেছে। বিদ্যুতের খোলা তার বা ট্রান্সফর্মার থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কলকাতা পুলিশের তরফে মাইকিং করা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প এবং অক্ষরেখার প্রভাবেই এই তীব্র দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল শনিবারও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।