আরব সাগরে রণসজ্জা! ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধে মার্কিন বাহিনীর মরণাস্ত্রমাত্র ‘সি হক’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এখন এক নতুন উচ্চতায়। আরব সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে সেখানে সামরিক প্রস্তুতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, ইরানের বন্দরমুখী বা বন্দর থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ।
অবরোধে থমকে বাণিজ্য, গতিপথ পরিবর্তন ১১১ জাহাজের
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ২০টিরও বেশি বিপজ্জনক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এই কড়া নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত ১১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ বাধ্য হয়ে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী অ-ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না, তবে ইরানের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অবরোধ চলছে। বর্তমানে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও, অবিরাম টহল ও যুদ্ধের প্রস্তুতির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে বারুদ ঠাসা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মরণাস্ত্রমাত্র ‘এমএইচ-৬০ সি হক’ হেলিকপ্টার
এই পুরো অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনীর তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে অত্যাধুনিক ‘এমএইচ-৬০ সি হক’ (MH-60 Seahawk) হেলিকপ্টার। বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক বহুমুখী নৌ-হেলিকপ্টার হিসেবে পরিচিত এটি। সম্প্রতি ইউএসএস ত্রিপোলি (LHA-7) যুদ্ধজাহাজ থেকে এই হেলিকপ্টারগুলো ব্যবহার করে সমুদ্রের মাঝখানে বিশেষ বাহিনীর ‘র্যাপেল’ ও ‘ফাস্ট-রোপিং’ মহড়া চালানো হয়েছে।
কেন এই হেলিকপ্টার মার্কিন বাহিনীর শক্তির কেন্দ্রবিন্দু?
ডুবোজাহাজ নিধনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী: উন্নতমানের সোনার সিস্টেম ও সেন্সর থাকায় সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এর কাছে ডাল-ভাত।
ধ্বংসক্ষমতা: এমএইচ-৬০আর (MH-60R) সংস্করণে জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো এবং ভারী মেশিনগান যুক্ত করা যায়, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সব আবহাওয়ার সঙ্গী: ঘন কুয়াশা, প্রবল বৃষ্টি বা গভীর রাত—যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই এটি নিখুঁতভাবে মিশন সম্পন্ন করতে সক্ষম।
গতি ও সক্ষমতা: দুটি টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিনে চালিত এই হেলিকপ্টারটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৭০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। একবার জ্বালানি ভরলে এটি টানা ৮৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
বহুমুখী ব্যবহার: আক্রমণাত্মক অভিযানের পাশাপাশি থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করে নজরদারি এবং সমুদ্র থেকে সৈন্য বা বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধারে এটি ব্যবহার করে মার্কিন নেভি সিলস-এর মতো বিশ্বের দুর্ধর্ষ বাহিনীগুলো।
আরব সাগরে এই হেলিকপ্টারের ক্রমাগত মহড়া এবং কঠোর নৌ-অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ছোট একটি স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে।