ডিটিএইচ-এর দিন শেষ? রেকর্ড লোকসানে ধুঁকছে ডিশ টিভি, কপালে চিন্তার ভাঁজ!

ডিজিটাল যুগে বিনোদনের মাধ্যম বদলেছে আমূল। সাধারণ মানুষের পছন্দের তালিকায় এখন প্রথাগত কেব্ল বা ডিটিএইচ (DTH) পরিষেবার চেয়ে ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। আর এই পরিবর্তনের সরাসরি শিকার হতে হচ্ছে ডিশ টিভির মতো বড় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবর্ষে ডিশ টিভি প্রায় ৮০৭ কোটি টাকার নিট লোকসানের মুখে পড়েছে, যা গত অর্থবর্ষের (৪৮৮ কোটি টাকা) তুলনায় অনেকটাই বেশি।
কেন এই বিপর্যয়?
ডিশ টিভির সাবস্ক্রিপশন আয় গত এক বছরে ৩৫.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিগত বছরের ১,৩৭৭ কোটি টাকার তুলনায় এই আয় নেমে এসেছে মাত্র ৮৮৬ কোটি টাকায়। ট্রাই (TRAI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ডিশ টিভির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ৯৮ লক্ষের কাছাকাছি। তবে গ্রাহক হারানোর পাশাপাশি ইবিআইটিডিএ (EBITDA)-এর ক্ষেত্রেও সংস্থাটি তীব্র লোকসানের সম্মুখীন। গত অর্থবর্ষে যেখানে মুনাফার কিছুটা আশা ছিল, সেখানে এবার সংস্থাটি ৭ কোটি টাকার লোকসানে হাবুডুবু খাচ্ছে।
ব্যবসায়িক মন্দার চিত্র:
টেলিকম টকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ ত্রৈমাসিকেও ছবিটা একই রকম হতাশাজনক। গত বছরের তুলনায় এই ত্রৈমাসিকে পরিচালন আয় ২৯.৩ শতাংশ কমে ২৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু আয়ের পতন নয়, একই সঙ্গে বাড়ছে ব্যয়ের বোঝা। একদিকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে সংস্থার উচ্চ পরিচালন ব্যয়—সব মিলিয়ে ডিশ টিভির বর্তমান পরিস্থিতি রীতিমতো আশঙ্কাজনক।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিশ টিভির ব্যবসায়িক মডেলে প্রবৃদ্ধির কোনো নতুন ক্ষেত্র দেখা যাচ্ছে না। সংস্থার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতার কারণে সাবস্ক্রিপশন সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গ্রাহকদের এই ওটিটি-মুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে প্রচলিত ডিটিএইচ পরিষেবার অস্তিত্ব বড় ধরণের সংকটে পড়বে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি বদলাতে ডিশ টিভি কোনো নতুন কৌশল অবলম্বন করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।