তৃণমূলের অন্দরে চরম সংঘাত! কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে অভিযোগ কাকলির

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এখন আর ঘরের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেল দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা—লোকসভায়। দলেরই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ তুলে সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই ঘটনায় দলের অন্দরের ফাটল যে আরও চওড়া হলো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অভিযোগের মূলে কী?
স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন, “সংসদের ভিতরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আমাকে মৌখিকভাবে অপমান করেছেন। তাঁর এই নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও করা হয়েছে।” এই ধরনের আচরণের জন্য তিনি যথাযথ শাস্তির দাবি তুলেছেন।

পাল্টা আক্রমণে কল্যাণ:
অভিযোগ অস্বীকার করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টিকে স্রেফ ‘আফটারশক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি এখনও কোনো চিঠি পাইনি। যদি স্পিকার ব্যাখ্যা চান, তবেই আমি উত্তর দেব।” একইসঙ্গে কল্যাণ প্রশ্ন তুলেছেন কাকলির উদ্দেশ্য নিয়ে। তিনি বলেন, “চিঠিতে ২৮ মে-র তারিখ দেওয়া হয়েছে, অথচ আজ ছুটি। তাছাড়া এতদিন পর এই অভিযোগ কেন? নিজের বাজারদর বাড়াতেই এই মিথ্যে নাটক করছেন কাকলি।”

তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্ন:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় কোনো সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সংসদীয় দলের নেতার কাছে জানানোর কথা। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব—বিশেষ করে সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে না জানিয়ে কেন সরাসরি স্পিকারের কাছে গেলেন কাকলি, তা নিয়ে দলের অন্দরেও উঠেছে প্রশ্ন।

বিবাদের প্রেক্ষাপট:
লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরানোর পর থেকেই তাঁর এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কল্যাণ ওই পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ থেকে শুরু করে দলের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন কাকলি। এমনকি তিনি দলের বিভিন্ন পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। পাল্টাপাল্টি দোষারোপে এখন তৃণমূলের এই দুই দাপুটে সাংসদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।

দলের দুই প্রবীণ সাংসদের এই প্রকাশ্য সংঘাত আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো বড় প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।