তৃণমূলকে ‘না’, কবিতার ছলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ—ঝালমুড়ি খেতে খেতে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

সকালবেলার প্রাতঃভ্রমণ মানেই দিলীপ ঘোষের চেনা মেজাজ। আজ ইকো পার্কে অনুগামীদের হাতে তৈরি মশলাদার ঝালমুড়ি খাওয়ার ফাঁকেই একের পর এক ধারালো রাজনৈতিক মন্তব্যে সরগরম করলেন তিনি। এদিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা—সব ইস্যুতেই তিনি ছিলেন চাঁছাছোলা।

রাজনৈতিক বাণ ও আক্রমণ:

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে দুর্নীতি ইস্যুতে: দীপঙ্কর বাদুড়িয়ার গুপ্তধন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম টেনে এনে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “এত টাকা যে রাখার জায়গা নেই। সবাই তো আর পার্থবাবুর মতো ফ্ল্যাট কিনে টাকা রাখতে পারেননি। তবে সবার ব্যবস্থাই হবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা ‘গিরগিটি’ নিয়ে: ভোট পরবর্তী বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা লেখার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি আগেই বলেছি বাড়িতে বসে কবিতা লেখার কথা। নিজের প্রতিভাকে শান দিন, কারণ পার্টি তো উঠে যাচ্ছে, তখন কবিতা লেখার আরও সুযোগ পাবেন।”

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও অনুপ্রবেশ: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম নিয়ে বিরোধীদের তোলা ‘না দেওয়ার কৌশল’-এর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, “সবই সরলীকরণ হবে। আগের মতো বাংলাদেশিরা টাকা নিয়ে যেতে পারবে না।”

তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে: তৃণমূলকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের ‘ভাল তৃণমূল-খারাপ তৃণমূল’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, “তৃণমূলকে না নেওয়াটাই ভালো। ঘোলা জল থিতিয়ে গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।”

অভিনব ঝালমুড়ি আড্ডা:
এদিন দিলীপ ঘোষের প্রাতঃভ্রমণকে ঘিরে ছিল অন্যরকম আমেজ। দলীয় অনুগামীরা অভিনব ঝালমুড়ির বাক্স নিয়ে হাজির ছিলেন। নিজের হাতে নানা মশলা মিশিয়ে ঝালমুড়ি তৈরির দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ঝালমুড়ির ঝাঁঝ আর রাজনৈতিক আক্রমণের ঝাঁঝ—সব মিলিয়ে জুনের সকালে ইকো পার্কের আড্ডা জমে উঠেছিল তুঙ্গে।