‘আমার কথা শোনার কেউ নেই’, মৃত্যুর আগে ঋতুপর্ণাকে কী বলেছিলেন অনীক দত্ত?

টলিউডে শোকের ছায়া। প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক প্রয়াণে স্তম্ভিত গোটা চলচ্চিত্র জগত। পরিচালকের মৃত্যুর নেপথ্যে কি তবে গভীর অবসাদ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সব মহলে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে লেখা, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ যদিও হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট আসার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এই নোটটি পরিচালকেরই কি না। তবে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অনীক দত্ত।
‘ওঁর কথা শোনার কেউ নেই’, আক্ষেপ ঋতুপর্ণার পরিচালকের প্রয়াণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন লিখেছেন, “গত সপ্তাহে অনীকদা ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন একবার দেখা করতে চান। একাকীত্বে ভুগছিলেন তিনি। আক্ষেপ করে বলেছিলেন, এখন তাঁর কথা শোনার মতো সময় বা ধৈর্য কারও নেই। এমনকি আর ছবি তৈরি করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। সরি অনীকদা… বুঝতে পারিনি ভেতর থেকে আপনি কতটা ভেঙে পড়েছিলেন।”
অবসাদ নিয়ে সরব দেবলীনা অনীক দত্তের এই মর্মান্তিক পরিণতির পর অবসাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। তিনি বলেন, “আমাদের সবার মধ্যেই কমবেশি অবসাদ থাকে। কিন্তু তা এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাবে, ভাবাই যায় না। কাছের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা এখন খুব জরুরি। হাসিমুখের আড়ালেও যে কত বড় যন্ত্রণা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা আজ আবারও প্রমাণিত হলো।”
‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’, শোকাচ্ছন্ন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালকের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তাঁর আদর্শ, মূল্যবোধ এবং সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর প্রতিটি কাজের মধ্যে ফুটে উঠত। এমন মানুষ ও বন্ধু পাওয়া দুর্লভ। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এই চলে যাওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। কীভাবে এই শোক সামলাব, জানি না।”
পুলিশের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরই মৃত্যুর আসল রহস্য স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।