তৃণমূলের অন্দরে এবার আই-প্যাক (I-PAC) বিতর্ক: শুভেন্দুর ‘সাহসী’ সিদ্ধান্তের প্রশংসা সুপ্রকাশ গিরির!

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর থেকে দলের অন্দরে ক্ষোভের পারদ ক্রমেই চড়ছে। এবার আই-প্যাক (I-PAC)-এর কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি সরব হলেন কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সুপ্রকাশ গিরি। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দলের বর্তমান কৌশল এবং নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।

আই-প্যাক ও শুভেন্দু প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সুপ্রকাশ সুপ্রকাশ গিরি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের নেপথ্যে আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে বলেন, “আই-প্যাকের কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট হয়েই শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিত্ব ও দলের শীর্ষ পদ ছাড়ার যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা প্রশংসনীয়।” সুপ্রকাশের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, বিশেষত যখন তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নেতৃত্ব ও রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রকাশ গিরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তাঁর নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে সবাই সমান দক্ষ হয় না। কেউ ফার্স্ট বয়, কেউ লাস্ট বয়। কিন্তু একজন দক্ষ নেতার কাজ হলো লাস্ট বয়কে বুঝিয়ে শুনিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ভূমিকা না নিয়ে সরাসরি দল থেকে তাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন, যা তৃণমূল কর্মীদের মনে গভীর আঘাত করেছে।”

‘আই-প্যাক আতঙ্কে’ তটস্থ তৃণমূল নেতারা সুপ্রকাশ গিরির দাবি, তৃণমূলের অন্দরে একটা সময় আই-প্যাক নিয়ে চরম আতঙ্ক কাজ করত। তিনি বলেন, “তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে আমি ১৫ দিনও পদে থাকতে পারতাম না। তারা আই-প্যাকের নির্দেশে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইত।” শুধু সুপ্রকাশ নয়, এর আগে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহাও একই সুরে আই-প্যাক ও দলের তথ্যগত ভুলের কথা তুলে ধরেছিলেন।

তৃণমূলের একাংশের এই বিদ্রোহ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ভোটের এই ভরাডুবির পর দলের রণকৌশল এবং আই-প্যাকের মতো বহিরাগত সংস্থার হস্তক্ষেপ নিয়ে নবান্নের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, শীর্ষ নেতৃত্ব এই ক্ষোভ সামলাতে কী পদক্ষেপ নেয়।