আসারামের দুই সহযোগী বেকসুর খালাস! হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথে নির্যাতিতার পরিবার

এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখল রাজস্থান হাইকোর্ট। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসারামের করা আপিল বুধবার খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। তবে আসারামকে কিছুটা আইনি স্বস্তি দিয়ে কিছু ধারা বাতিল করেছে হাইকোর্টের যোধপুর বেঞ্চ।

রায়ের মূল দিকগুলি:
সাজা বহাল: বিচারপতি অরুণ কুমার মোঙ্গা ও বিচারপতি যোগেন্দ্র কুমার পুরোহিতের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং পকসো (POCSO) আইনের অধীনে অপরাধ আসারামের বিরুদ্ধে প্রমাণিত। তাই তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল থাকছে। অর্থাৎ, স্বাভাবিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁকে জেলেই থাকতে হবে।

আংশিক স্বস্তি: হাইকোর্ট আসারামের ওপর থেকে ‘গণধর্ষণ’ (Gangrape) এবং ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’ (Criminal conspiracy)-এর ধারা দুটি তুলে নিয়েছে।

সহযোগীদের মুক্তি: নিম্ন আদালত আসারামের দুই সহযোগী শরৎচন্দ্র ও শিল্পীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। হাইকোর্ট তাঁদের সমস্ত অভিযোগ থেকে ‘বেকসুর খালাস’ করেছে।

আইনি লড়াই ও পরবর্তী ধাপ:
২০১৩ সালে যোধপুরের আশ্রমে এক নাবালিকাকে রোগ সারানোর অছিলায় যৌন হেনস্থার অভিযোগে আসারাম গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে যোধপুরের বিশেষ পকসো আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে।

হাইকোর্টের বর্তমান রায়ের পর নির্যাতিতার আইনজীবী পি সি সোলাঙ্কি জানিয়েছেন, আসারামের যাবজ্জীবন সাজা বহাল থাকায় তাঁরা স্বস্তিতে। তবে দুই সহযোগীর মুক্তি এবং ‘গণধর্ষণ’-এর মতো গুরুতর ধারা বাদ পড়ায় নির্যাতিতার পরিবার অসন্তুষ্ট। তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জামিন ও আত্মসমর্পণ:
বর্তমানে চিকিৎসার জন্য অন্তর্বর্তী জামিনে জেলের বাইরে রয়েছেন আসারাম। তবে হাইকোর্টের এদিনের নির্দেশের পর তাঁকে দ্রুত আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও তাঁর জামিনের মেয়াদ আপাতত ৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু হাইকোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে তাঁর আইনি রক্ষাকবচ অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়ল।

এই মামলায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এখন গোটা দেশের নজরে রয়েছে।