পুরীর হোটেলে ‘গোপন আস্তানা’! পুলিশের জালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল

দীর্ঘ কয়েক মাসের পলাতক জীবন কাটিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুরীর একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ওড়িশা পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
ভোট পরবর্তী সময়ে একটি বিজয় মিছিল থেকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন দিলীপ মণ্ডল। সেই ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। এরপর থেকেই বিধায়ক গা ঢাকা দেন।

যেভাবে ধরা পড়লেন বিধায়ক:
তদন্তের স্বার্থে পৈলানে বিধায়কের অট্টালিকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বারবার হানা দিয়েও পুলিশ তাঁকে খুঁজে পায়নি। তবে সম্প্রতি তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তকারীদের হাতে আসে নতুন সূত্র। পুলিশের দাবি:

ছেলের ফোনের কল লিস্ট ও বয়ানের ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ট্র্যাক করা হয়।

মোবাইল ফোনের লোকেশন ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বিধায়ক ভিন রাজ্যে আত্মগোপন করেছেন।

পুরীর একটি হোটেলে তিনি ভুয়ো পরিচয়ে লুকিয়ে ছিলেন এবং নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
ভোররাতে এসটিএফ ও ওড়িশা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়েছে। যদিও ভবানী ভবনের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে রাজ্য পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব শীঘ্রই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনা হবে।

উল্লেখ্য, দিলীপ মণ্ডলের এই গ্রেফতারি রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে এবং শাসকদলের অন্দরেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘ টালবাহানার পর এই গ্রেফতারিতে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।