নাগরিকত্ব বিতর্কে বিদ্ধ রাহুল গান্ধী! এলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের মামলা, কী দাবি আবেদনকারীদের?

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভারতের নাগরিকত্ব বাতিল এবং তাঁর সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আইনজীবী অশোক পান্ডে এবং দন্ত চিকিৎসক রাজনেশ কুমার সিংহের দায়ের করা এই মামলা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। মামলাটি বিচারপতি শেখর সরাফ এবং বিচারপতি অবধেশ কুমার চৌধরির বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।

আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ:
মামলাকারীদের প্রধান অভিযোগ, রাহুল গান্ধী বর্তমানে ব্রিটেনের নাগরিক। তাঁদের দাবির স্বপক্ষে মামলার আবেদনে বলা হয়েছে:

ব্রিটিশ সংস্থার নথিপত্র: ২০০৩ সালে ব্রিটেনে নথিভুক্ত ‘M/S Backops Limited’ নামের একটি সংস্থার ডিরেক্টর এবং শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রাহুলের নাম রয়েছে। সেখানে তাঁর লন্ডনের ঠিকানাও উল্লেখ আছে।

আইনি যুক্তি: আবেদনকারীদের দাবি, ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনের ৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কেউ অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তবে ভারতীয় নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। যেহেতু তিনি নিজেকে ব্রিটেনের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাই তিনি ভারতের সংসদের সদস্য হওয়ার অযোগ্য।

পুরানো বিতর্কের পুনরুত্থান:
রাহুলের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই একই অভিযোগ উঠেছে:

২০১৫ ও ২০১৯: আইনজীবী অশোক পান্ডে এবং রাজনেশ কুমার সিংহ আগেও একই ধরণের আবেদন করেছিলেন, যা সে সময় হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। তৎকালীন বিচারপতিরা জানিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

অন্যান্য অভিযোগ: ২০১৯ সালে বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং ২০২৪ সালে কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এ ভিগ্নেশ শিশিরও একই অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন।

রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট:
যদিও এই মামলাটি লখনউ বেঞ্চে উঠেছে, তবে অতীতে বিভিন্ন আদালত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিষয়টিকে মূলত সরকারের প্রশাসনিক ও আইনি সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, রাহুল গান্ধী রায়বরেলী থেকে সাংসদ পদে বসার আইনত যোগ্য নন।

এখন আদালত এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কী পর্যবেক্ষণ দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে কোনো নির্দেশ দেয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এই ধরণের আইনি পদক্ষেপ আসন্ন সংসদীয় অধিবেশন এবং রাজনীতির আঙিনায় নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।