আইন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কড়াকড়ি! দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

আইন শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার (Attendance) নিয়ে বড়সড় আইনি বিতর্ক দেখা দিল। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ, গত বছর দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া একটি আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। এই আদেশের মাধ্যমে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, কেবল উপস্থিতির ঘাটতি থাকলেই একজন আইন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া যাবে না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
২০১৬ সালে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে এই আইনি লড়াই শুরু হয়। সেই ছাত্রীকে অপর্যাপ্ত উপস্থিতির কারণে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি, যার জেরে এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাঁকে। পরবর্তীতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট হয়ে দিল্লি হাইকোর্টে পৌঁছালে, আদালত উপস্থিতি-ভিত্তিক কঠোর নিয়মের পরিবর্তে ‘বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

হাইকোর্টের অবস্থান:
দিল্লি হাইকোর্ট তাদের রায়ে যুক্তি দিয়েছিল যে, আইন শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। হাইকোর্টের মতে:

মক কোর্ট, বিতর্ক, সেমিনার এবং মক পার্লামেন্টের মতো সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কঠোর হাজিরা বিধি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা এবং স্বাধীন চিন্তার বিকাশকে ব্যাহত করে।

শুধু শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেই ভালো শিক্ষা লাভ হয় না, বরং প্রয়োগমূলক শিক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান অবস্থান:
বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) হাইকোর্টের এই নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। বিসিআই-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার নোটিশ জারি করেছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের ওই বিতর্কিত রায়ের (বিশেষ করে ২৪৯ নং অনুচ্ছেদ) কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট বিসিআই-কে আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের বিস্তারিত জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।

তাৎপর্য:
সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত দেশের আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতির হার সংক্রান্ত কঠোর বিধিই পুনরায় কার্যকর হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার প্রশ্নে বড় রায়, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল শিক্ষার দাবিকে আইনি জটিলতায় ফেলে দিয়েছে। এখন পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশের আইন পড়ুয়া ও শিক্ষকমহল।