মদ্যপ বাবার হাতেই খুন ছেলে! দেহ লুকিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, লখিমপুর খেরির ঘটনায় তোলপাড়

নেশার কবলে পারিবারিক বিবাদের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার আরও এক মর্মান্তিক নজির গড়ল উত্তরপ্রদেশ। সামান্য বচসার জেরে নিজের ৩০ বছর বয়সী ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ বাবার বিরুদ্ধে। শুধু খুন করাই নয়, প্রমাণ লোপাটের জন্য ছেলের মৃতদেহ বাড়ির ভেতরেই লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে লখিমপুর খেরি জেলার ভবানীপুর গ্রামে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন অভিযুক্ত দয়া রাম এবং তার ছেলে মুনিশ— দুজনেই মদ্যপ অবস্থায় ছিল। রবিবার সকালে কোনো এক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, তর্কের এক পর্যায়ে ছেলে মুনিশ তার বাবার ওপর চড়াও হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বাবা দয়া রাম। রাগের মাথায় হাতের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে নিজের ছেলের ওপর আক্রমণ চালায়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় মুনিশ।

দেহ লুকিয়ে পালানোর ছক
ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর দয়া রাম পরিস্থিতি সামাল দিতে মৃতদেহটি বাড়ির ভেতরেই লুকিয়ে রাখে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ মুনিশকে দেখতে না পেয়ে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই খবর পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

গোলা সার্কেলের পুলিশ আধিকারিক রমেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত দয়া রামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মদ্যপ অবস্থায় সামান্য পারিবারিক বিবাদ থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”

নেশার বলি কি বারবারই আপনজন?
নেশার ঘোরে পারিবারিক অশান্তি ও খুনের ঘটনা যে কতটা ভয়াবহ, তা নতুন নয়। এর আগেও গত বছর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর মিলনপল্লিতে ঠিক একই রকম এক ঘটনার সাক্ষী ছিল রাজ্যবাসী। সেখানেও নেশার ঘোরে ছেলে আশিস বিশ্বাসকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুনের অভিযোগ উঠেছিল তার বাবার অমল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। বারবার ঘটে চলা এই ধরনের ঘটনা সমাজ ও পরিবার কাঠামোর ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে।